সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ গ্রেফতারে শিগগিরই অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিগগিরই দেশব্যাপী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) হেডকোয়ার্টার্সে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে শুরু হবে এই অভিযান। সারা দেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগী আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি দেশের জনগণ সহযোগিতা করবেন। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। আশা করি আমরা শিগগিরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অ্যাডিশনাল কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি, এডিসি এবং ৫০ থানার ওসিদের সবার সাথে কথা বলেছি। তাদের সমস্যা শুনেছি এবং আমাদের যে ইনস্ট্রাকশন সেগুলো আমরা জানিয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও বর্তমান সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা ও জনগণের মধ্যে স্বস্তি প্রদান করা এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। আমরা সবাই জানি।
বিগত সরকারের আমলে পুলিশের কালিমা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ বিগত সময়ে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার ব্যবস্থার মধ্যে ছিল। সেই সময় অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের এই প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ক্রমান্বয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। জনমনে যাতে আস্থাটা আমরা সৃষ্টি করতে পারি।
তিনি দাবি করে বলেন, পুলিশের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল সেই ভূমিকায় আমরা আবার অবতীর্ণ হয়েছি। মানুষ যাতে মনে করে পুলিশ সত্যিকারভাবে জনগণের বন্ধু এবং সেই হিসেবে আমরা পুলিশ ফোর্সকে পরিচালিত করব। আমি সবার মধ্যে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখতে পেয়েছি, তারা সবাই সঙ্কল্পবদ্ধ। দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের কপালে যে অতীতে কালিমা লেপন করে দেয়া হয়েছিল সেজন্য তারা নিজেরা দায়ী নয়। একটা ফ্যাসিবাদী রেজিমের কারণে কিছু লোক সেই কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। যার দোষটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের ওপরে এসে পড়েছে। সেজন্য প্রতিষ্ঠান দায়ী নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে আমাদের এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক সিস্টেমে সবাই কাজ করে, এখানে যেন কোনো ব্যক্তি সিস্টেম গড়ে না ওঠে। রুল অব ল’ আমরা প্রতিষ্ঠা করব এবং পুলিশ আইনানুগভাবেই চলবে। এখানে কোনো ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক কোনো নির্দেশ পালিত হবে না। আইন যেভাবে বলে সেভাবেই যাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেভাবে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার সাথে স্ব স্ব বিভাগ পরিচালিত করবে। তারা সেই সঙ্কল্প আজকে প্রকাশ করেছে। আমি তাদের জনগণের পক্ষে বর্তমান সরকারের যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সেগুলো স্মরণ করে দিয়েছি। তাদের কাছে আমি আশা করি, তারা জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকে দুইটা বিষয়েই আমি অনুশাসন দিয়েছি। আমরা শিগগিরই দেশব্যাপী বিশেষ করে ঢাকা থেকে আমরা অভিযান শুরু করব। আমরা চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনে আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব শিগগিরই।
দ্বিতীয়ত যারা অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, দাগী আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেটা নির্মোহভাবে তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। আনবায়াস্ট তালিকা স্ক্রটিনি (খুঁটিনাটি বা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা) করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করব। এই দুইটা বিষয় আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়েছি। আশা করি এ দেশের সব জনগণ আপনারা সবাই সেটাতে সহযোগিতা দেবেন এবং সহযোগিতা পাব। আমরা সেই দিকেই যাচ্ছি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একজন ওসি সরাসরি মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না। কিন্তু মন্ত্রী যদি চায় যেকোনো লেভেলের কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ করবে। কিন্তু ‘চেইন অব কমান্ড’ ব্রেক করে একজন নি¤œ পদস্থ কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না।
ঢাকার যানজট বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা সেল বা কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছি ডিএমপি কমিশনারকে। তিনি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সাথে বসে যানজট নিয়ন্ত্রণে করণীয় ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে আমাকে একটি রিপোর্ট দিবে। তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তায় ব্যাটারি চালিত রিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ঢাকার প্রধান ও ভিআইপি রোডে যেখানে ব্যাটারি চালিত রিকশা থাকার কথা নয়, সেখানেও তারা চলাচল করছে। এটা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা এয়ারপোর্ট রোড থেকে সচিবালয় পর্যন্ত রাস্তায় ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ করব। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রধান ও ভিআইপি সড়কে এটি করা হবে।
এ সময় আইজিপি মো: আলী হোসেন ফকির, ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো: সরওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।