নতুন মাত্রায় বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ল্যাবরেটরি
Printed Edition
বুটেক্স প্রতিনিধি
টেক্সটাইল শিল্পায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ওয়েট প্রসেস। এ প্রক্রিয়ায় প্রি-ট্রিটমেন্ট, ডায়িং-প্রিন্টিং ও ওয়াশিংয়ের মাধ্যমে রূপান্তরিত কাপড়ের মান, সৌন্দর্য ও বাজারমূল্য বহুগুণে বাড়ে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের শিল্পমানের এ প্রক্রিয়া বাস্তবভাবে শিখতে সহযোগিতা করছে তাদের অত্যাধুনিক ওয়েট প্রসেস ল্যাবরেটরি।
প্রায় ৭০ বছর পূর্বে তৈরি এ ল্যাবটিতে পুরনো যন্ত্রপাতি, ব্যবহারিক ক্লাসে ভিড় ও অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করা কষ্টসাধ্য ছিল। চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের তত্ত্বাবধানে পুরাতন ও অকার্যকর যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করে আধুনিক মানসম্পন্ন নতুন মেশিন স্থাপন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ল্যাবরেটরির সংস্কার করা হয়। ল্যাবটিতে ব্যবহারিক কার্যক্রমের জন্য এটিকে প্রি-ট্রিটমেন্ট, ডায়িং, প্রিন্টিং, ফিনিশিং ও টেস্টিং এ পাঁচটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। ফলে এখন প্রি-ট্রিটমেন্ট থেকে শুরু করে ডায়িং, ওয়াশিং, কিউরিং ও ফিনিশিং পর্যন্ত পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই সংস্কারকৃত ল্যাবটিতে। এতে শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও পেশাগত দক্ষতার ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রাখতে পারবে।
নতুনভাবে স্থাপিত যন্ত্রপাতি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রঞ্জন, ছাপার ও সমাপ্তি প্রক্রিয়ায় উন্নত মানের পরীক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। প্রিন্টিং বিভাগে নতুন সংযোজিত মেশিনগুলোর মধ্যে রয়েছে অটোমেটিক ল্যাব প্রিন্টিং টেবিল, স্ক্রিন স্ট্রেচিং মেশিন, অটোমেটিক ইউভি এক্সপোজার মেশিন, স্ক্রিন ফ্রেম ড্রায়িং মেশিন, ওয়াটার পিউরিফিকেশন ইউনিট (গ্রেড-৩) ও ডিজিটাল টেক্সটাইল প্রিন্টিং মেশিন।
এ ছাড়া ডায়িং ও টেস্টিং বিভাগে সংযোজিত মেশিনগুলো হলো গ্লিসারিন বাথ স্যাম্পল ডায়িং মেশিন, ল্যাবরেটরি প্যাডার মেশিন, ভার্টিক্যাল ফ্ল্যামাবিলিটি টেস্টার, প্রিসিশন অক্সিজেন টেস্টার, ফ্যাব্রিক স্টিফনেস টেস্টার, হাইড্রোলিক জিএসএম কাটার, গ্রে স্কেল ও ব্লু স্কেল ইত্যাদি। মেশিনগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের ডায়িং ও প্রিন্টিং প্রক্রিয়ার গুণগত মূল্যায়নের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।
এ ল্যাবের সুবিধা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকার কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক তন্তুর উপযোগী রঙায়ন শর্ত নির্ধারণ ও সর্বোত্তম ফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি কম পানি ব্যবহার, নিম্ন তাপমাত্রায় কার্যকর ডায়িং এবং বায়ো-বেসড ফিনিশিং কেমিক্যাল নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ল্যাবে ওয়াশিং ইউনিট ও মিনি-ড্রেনেজ সিস্টেম থাকায় বর্জ্যপানি শোধন ও পানি পুনঃব্যবহার সম্পর্কিত গবেষণাও করা সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: জুলহাস উদ্দিন বলেন, ল্যাবের এ সংস্কারের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন বাস্তব শিল্প-প্রক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিতে পারছে, যা তাদের দক্ষতা উন্নয়নের বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শিক্ষক ও গবেষকগণ উন্নত মানের পরীক্ষণ ও উদ্ভাবনী গবেষণা পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে বাজেট পাওয়া সাপেক্ষে অন্যান্য বিভাগের ল্যাবসমূহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মামুন কবির জানান, দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে অবশেষে এর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়েছে। পরিবর্তন ও অগ্রগতির সূচনায় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাইলফলক। ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: সোহাগ বাবু বলেন, পূর্বে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ব্যবহারিক মৌলিক কাজ শেখানো ছিল বেশ কঠিন আর গবেষণার মতো জটিল কার্যক্রম পরিচালনা ছিল প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে সংস্কারকৃত ল্যাবের নতুন কাঠামোটি আধুনিক ডিজাইনে তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রবেশের সাথে সঙ্গেই সুশৃঙ্খল বিন্যাস, আলোবাতাসের সমন্বয় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে স্বাভাবিকভাবেই শেখার প্রতি আগ্রহ অনুভব করে। ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম সিফাত বলেন, আমাদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ল্যাবরেটরি, যেখানে আমরা বইয়ের তত্ত্বকে বাস্তবে প্রয়োগ করি। বর্তমানে ওয়েট প্রসেস ল্যাবের ক্লাসগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যার ফলে আমরা ক্লাস করে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নতুন ল্যাবে বিভিন্ন নতুন মেশিন আনা হয়েছে যা আমাদের জন্য উপকারী হবে।