ইশতেহার ও পলিসি পেপার চূড়ান্ত

২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারে নামবে জামায়াত

Printed Edition
first-2
জামায়াতে ইলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের সভা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোটে ফিরে আসার সুযোগ থাকার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পরদিন গতকাল রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইসলামী আন্দোলনের জন্য জামায়াতের দরজা এখনো খোলা রয়েছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবার জন্য জামায়াতের দরজা খোলা আছে।

ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন রেখে জামায়াত জোটের আসন ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আসনগুলোর বিষয়ে এখন কী সিদ্ধান্ত হবে জানতে চাইলে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সব দলের সমন্বয়ে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে জানালে শীর্ষ নেতৃত্ব বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

ইশতেহার চূড়ান্তে বৈঠকে জামায়াত : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। সেই নির্বাচনের জন্য দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল শনিবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে রাত পর্যন্ত। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দলের আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্যসহ মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। ২২ জানুয়ারি থেকে দলের নির্বাচনী প্রচারের সূচিও ঠিক হবে এ বৈঠকে। নির্বাচনী সফর কবে, কিভাবে হবে, সেই পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হবে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কিছু ‘পলিসি পেপার’ বৈঠকে প্রস্তাব আকারে এসেছে। বিশেষজ্ঞ দল তা বৈঠকে পেশ করছে। বৈঠকে সেটিও চূড়ান্ত হবে। ‘পলিসি পেপার’ এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে পলিসি পেপার প্রয়োজন হয়। এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত হলে জাতিকে জানানো হবে এবং দলের ওয়েবসাইটেও দেয়া হবে।

কওমি আলেমের জামায়াতে যোগদান : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিশিষ্ট কওমি আলেম ও সুবক্তা মুফতি আলী হাসান উসামা। গতকাল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়েরের উপস্থিতিতে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন।

ইসলামী আন্দোলনের ১০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান : ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড (দাসেরকান্দি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি গাজী নাসির উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী আক্তার হোসেন ও কাজী খালেদ হোসেনসহ ১০ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেনÑ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহমদ। সভাপতিত্ব করেন খিলগাঁও পূর্ব থানা আমির মাওলানা মাহমুদুর রহমান। এ সময় নেতারা নবাগত নেতাকর্মীদের স্বাগত জানান এবং সংগঠনের আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

অলি আহমদের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদ : মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীরবিক্রমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ একজন খেতাবপ্রাপ্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন। তিনি একজন সৎ, গণতন্ত্রমনা ও দেশপ্রেমিক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, তার মতো একজন পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাসম্পন্ন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের অত্যন্ত অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত এবং রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হয়রানিমূলক এ মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলায় উদ্বেগ : চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আবদুল্লাহ এবং তার সাথে থাকা মাঈনুদ্দিন নামে আরেক যুবককে দুষ্কৃতকারীরা লাঠি ও চাকু দিয়ে অতর্কিত হামলা করে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমি এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি ও নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা জাতির জন্য অশনি সঙ্কেত। এটি শুধু একজন জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা নয়, বরং গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।