রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে স্বাভাবিক হবে পুঁজিবাজার

Printed Edition
artho-1
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটলে স্বাভাবিক হবে পুঁজিবাজার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

দেশের চলমান বাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিক হতে পারছে না পুঁজিবাজার। তৈরি হয়েছে আস্থার সঙ্কট। এরি মধ্যে গত বৃহস্পতিবার আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের আশাবাদী করে তুলেছে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে দেশে ভালোভাবে নির্বাচনী আবহ তৈরি হলে আস্থার সঙ্কট কেটে যেতে পারে। তখন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে পুঁজিবাজার। মানুষ আবার বাজারমুখী হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারগুলো চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে পার করছে। কালে-ভদ্রে সূচকের উন্ননি ঘটতে দেখা গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দরপতনের কবলে পড়ছে বাজারগুলো। চলতি মাসের শুরুতেও বাজারে ধারাবাহিক পতনের ঘটনা ঘটে। দেখো যায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সপ্তাহের মোট পাঁচ কর্মদিবসের তিন বা চারটিতেই সূচক হারাচ্ছে বাজারগুলো। তবে গত সপ্তাহে বাজারের এ অচরণের কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। সপ্তাহটিতে মোট পাঁচ কর্মদিবসের তিনটিতেই উন্নতি ঘটে দুই পুঁজিবাজার সূচকের, যা সামনের বাজার আচরণ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কমবেশি আশ^স্ত করছে।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৭৭ দশমিক ২৬ তথা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। রোববার ৪ হাজার ৮৮৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে সপ্তাহ শুরু করা সূচকটি বৃহস্পতিবার সপ্তাহান্তে পৌঁছে যায় ৪ হাজার ৯৬৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১১ দশমিক ৬৬ ও ৯ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।

ফেলে আসা সপ্তাহটির বাজার আচরণ সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। কারণ এরিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সংশয় কাজ করছিল। আদৌ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হচ্ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখন সব কিছু স্পষ্ট করেছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকছে না। এটি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যেতে পারলে সামনের দিনগুলো পুঁজিবাজারের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে এমনই প্রত্যাশা তাদের।

সূচকের পাশাপাশি গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনেরও কিছুটা উন্নতি ঘটে। এ সময় বাজারটি মোট ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে বাজারটির লেনদেন ছিল ২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে একই হারে বৃদ্ধি পায় বাজারটির গড় লেনদেনও। এ সময় ডিএসইর গড় লেনদেন দাঁড়ায় ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা যা আগের সপ্তাহে ছিল ৪১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

সূচকের উন্নতিতে বাজারের মূল্যস্তর বৃদ্ধি পেলে বাজার মূলধনেরও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে ডিএসইর। গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজারমূলধন দাঁড়িয়ে ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বেশি। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭ কোটি ১ লাখ টাকার, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন করেছে টেক্সটাইল খাতের সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, ফাইন ফুডস, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, বিডি থাই ফুডস, একমি পেস্টিসাইডস, মুন্নু ফেব্রিক্স ও আনোয়ার গ্যালভেনাইজিং।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকার প্রথম স্থানে উঠে এসেছে খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জিলবাংলা সুগার মিলস। সাপ্তাহিক বাজার তথ্য অনুযায়ী, এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৯.৯০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ক্লোজিং দর ছিল ১৩২ টাকা ১০ পয়সা, যা ওই সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭১ টাকা ৬০ পয়সায়। এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানটি দখলে নেয় টেক্সটাইল খাতের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৯.১৭ শতাংশ। আগের সপ্তাহে ক্লোজিং দর ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা, যা গত সপ্তাহে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সায়। মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস, নর্দার্ণ জুট, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, এইচ আর টেক্সটাইলস, ফার্স্ট ফিন্যান্স, ইনটেক অনলাইন, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি ও ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

সপ্তাহের দরপতনের শীর্ষে ছিল রাষ্টায়ত্ত তেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ১০ দশমিক ২৮ শতাংশ। কোম্পানিটি গত অর্থবছরে ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। লভ্যাংশ ঘোষণার রেকর্ড পরবর্তী মূল্যসমন্বয়ে এ দর হারায় কোম্পানিটি।

আগের সপ্তাহের ২১৪ টাকা থেকে সমন্বয় পরবর্তী দর নেমে আসে ১৯২ টাকায়। ১০ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের এফএএস ফিন্যান্স। ডিএসইর সপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, নিউলাইন ক্লদিংস, আইবিবিএল বন্ড, গ্রামীণ ফোন, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এআইবিএল বন্ড ও ডিবিএল পারপিচুয়াল বন্ড।