৬০ একর জমির কুমড়া গাছে নেই একটি ফলও

পঞ্চগড়ে হাইব্রিড বীজে কোটি টাকার তি

Printed Edition
Banglar Diganta-1
বোদা উপজেলার ময়দানদীঘির একটি ক্ষেতের গাছে কোনো কুমড়া ধরেনি : নয়া দিগন্ত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ব্যাংকঋণ, ধারদেনা ও বাকিতে সার-কীটনাশক কিনে ৬০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন। গাছে ফুল এলেও তিন মাস পেরিয়ে এখন পর্যন্ত একটিও ফল না আসায় প্রায় কোটি টাকার তির মুখে পড়েছেন তিনি।

সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি চুক্তিতে নিয়ে প্রথমে আলু চাষ করেন। আলুতে লোকসানের পর তিনি আলমগীর সিড কোম্পানির ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ দিয়ে চাষ শুরু করেন। কোম্পানির প থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ মেট্রিক টন ফলনের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, কোম্পানির নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে গাছের বৃদ্ধি ভালো হলেও ফল ধরেনি। ইতোমধ্যে জমি লিজ, শ্রমিক, সার, বীজ ও পরিচর্যা মিলিয়ে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রত্যাশিত ফলন হলে বর্তমান বাজারমূল্যে প্রায় দেড় কোটি টাকার কুমড়া বিক্রি করা সম্ভব হতো।

জমির মালিক কাব্য ভূষণ বর্মন বলেন, ‘আমরা ছয় ভাই মিলে সাজ্জাদকে জমি দিয়েছি। পাশের জমিতে অন্য কৃষকের কুমড়া হয়েছে, কিন্তু এই জমিতে ফলই আসেনি। এতে আমরাও পাওনা টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

স্থানীয় সার-বীজ ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান রাসেল জানান, আলমগীর সিডস কোম্পানির পরামর্শেই তিনি ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ সংগ্রহ করে সাজ্জাদকে দেন। কোম্পানি উচ্চফলনের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে ফল না আসায় কৃষকের ব্যাপক তি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোম্পানিকে তিপূরণ দেয়ার কথা বলেছি, কিন্তু তারা টালবাহানা করছে।’

তিগ্রস্ত কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঋণ আর ধারদেনা করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন আমি পথে বসেছি। কোম্পানি তিপূরণ না দিলে আইনের আশ্রয় নেব।’

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শামীম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।