পাকিস্তানের দায়িত্ব নেবে কে
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতেও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়, এই বাস্তবতা যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের আয়নায় ভেসে ওঠা নির্মম প্রতিচ্ছবি। তাদের ক্রিকেট টিমের এমন পরিণতি দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন নয়, তবে এবারের বিদায়টাকে সাবেক কিংবদন্তিরা বলছেন ‘লজ্জাজনক’। কারণ, প্রতিভার অভাব নয় বরং পরিকল্পনার ঘাটতি, নেতৃত্বের দুর্বলতা আর ধারাবাহিকতার সঙ্কটই দলটিকে টুর্নামেন্টের মাঝপথে থামিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল টুর্নামেন্টজুড়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পরই ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তোলেন পাকিস্তানের সাবেক লিজেন্ডরা। তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদিসহ অনেকেই। পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ, খেলোয়াড় তৈরির কাঠামো এবং জাতীয় দলের মান পুনরুদ্ধার নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন আফ্রিদি। এক্সে দেয়া বার্তায় আফ্রিদি লেখেন, ‘পাকিস্তান দলের মর্যাদা ও মান পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব কে নেবে?’
সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম খোলাখুলিভাবে বলেছেন, দলে স্পষ্ট কৌশল নেই। ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা কমে গেছে। একই সুরে ওয়াকার ইউনুসেরও, ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো শক্ত না হলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকতা আশা করা যায় না। অন্য দিকে স্পিডস্টার শোয়েব আখতার সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বোর্ডের নীতিনির্ধারণ নিয়ে, বারবার নেতৃত্ব বদল আর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হাল কে হাল ধরবে, এই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড়। তরুণ নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখা হবে, নাকি অভিজ্ঞ কারও হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে? বোর্ডের উচিত দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করা, যাতে অন্তত চার বছরের একটি স্থায়ী পরিকল্পনা থাকে। ঘরোয়া লিগ শক্তিশালী করা, হাই-পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম আধুনিকায়ন এবং খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ- এসব পদক্ষেপ জরুরি।
শহিদ আফ্রিদি লিখেন ‘এটি পাকিস্তানে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার একটি মুহূর্ত। আমাদের মতো বিশাল জনসংখ্যার একটি দেশ কিভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে মাত্র এগারো জন গড়পড়তা মানের খেলোয়াড় তৈরি করছে? তবে যেসব দল সেমিফাইনালে পৌঁছেছে, তারা নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতেই সেখানে উঠেছে। মানদ- স্থাপন করার জন্য তাদের অভিনন্দন।’
চলমান আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে সুপার এইটের শেষ ম্যাচে পাকিস্তান ৫ রানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেলেও সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের সমান ৩ পয়েন্ট হলেও নেট রান রেটে বেশ এগিয়ে থেকে সেমিতে উঠেছে নিউজিল্যান্ড।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাসিত আলি কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান দল এবং প্রধান কোচ মাইক হেসনকে নিয়ে। ‘এটা পাকিস্তান দল নয়। হার নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ আমাদের তো জেতার সামর্থ্যই নেই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাহিম আশরাফ ছক্কা মেরেছিল তাই জিতেছিলাম। সবারই ব্যাটিং পজিশন উপর-নিচ হয়: কিন্তু ফাহিম আশরাফকে উপরে খেলানো হয় না, কারণ সে তো পছন্দের ক্রিকেটার নয়। এটা মাইক হেসনের দল, পাকিস্তানের দল না।’
অধিনায়ক সালমানর ব্যাখ্যা, ‘আমরা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সের ধারেকাছেও ছিলাম না। মিডল অর্ডার পারফর্ম করেনি। দল রানের জন্য কেবল সাহিবজাদার ওপর নির্ভর করেছে। ভালো ব্যাটিং করিনি। সাহিবজাদাকে সমর্থন দিতে পারলে ভালো হতো। লম্বা সময় ধরেই আমদের মিডলঅর্ডার চিন্তার কারণ। বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে।’