মরা হালদায় প্রাণ ফেরাতে খননের প্রস্তুতি

Printed Edition

আবদুল মান্নান মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি)

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার পর এর অস্তিত্ব রক্ষায় শুরু হয়েছে নতুন কর্মসূচি। হালদার শাখা-প্রশাখা ও উজানে পরিবেশবিরোধী সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এবার সরকার নদীর সঙ্কুচিত হয়ে পড়া উজান অংশ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আওতায় হালদার উজানে মানিকছড়ি-রামগড় সীমান্তের মরা হয়ে যাওয়া অংশ পুনরায় খনন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সকালে মানিকছড়ি অংশের সালদা পাড়া থেকে ছদুরখীল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হালদা নদীর উৎপত্তি খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুক পাড়া এলাকার পাহাড়ি ঝিরি থেকে। এরপর নদীটি মানিকছড়ি উপজেলা এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী ও পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় মিশেছে। হালদা নদী ও এর তীরবর্তী মোট ২৩ হাজার ৪২২ একর এলাকাকে ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর জীবন রক্ষায় রামগড় থেকে কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যকে সুরক্ষার আওতায় এনে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

প্রজ্ঞাপনে হালদা নদীর সুরক্ষায় ১৬টি কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, এই নদী থেকে কোনো প্রকার মাছ বা জলজ প্রাণী শিকার করা যাবে না। তবে প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে মৎস্য অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়ে মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা যাবে। প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী যেকোনো কাজ এবং পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া নদীর চারপাশের বসতবাড়ি বা শিল্পকারখানার বর্জ্য নির্গমন পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তবে হালদার উজান অর্থাৎ মানিকছড়ি ও রামগড় অংশের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা দীর্ঘকাল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাহাড়ি ঢল ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। মানবসৃষ্ট নানা হস্তক্ষেপ ও অযতেœ নদীর অস্তিত্ব আজ বিলীন হওয়ার উপক্রম। এই সঙ্কট নিরসনে বর্তমান সরকারের ঘোষিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির আওতায় হালদাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে দ্রুতই এই খনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের উজান অংশ পাহাড়ি মাটিতে ভরাট হয়ে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ছিল। প্রথম পর্যায়ে পাঁচ কিলোি মটার খনন কাজের জন্য দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে ৪৭৬ জন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।