যুক্তরাষ্ট্রে রুমেইসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে বহিষ্কার মামলা খারিজ
Printed Edition
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
ইমিগ্রেশন কোর্টের এক বিচারক টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রুমেইসা ওজতুর্কের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) কার্যক্রম বাতিল করেছেন।
ওজতুর্কের আইনজীবীরা সোমবার এক ফেডারেল আপিল আদালতকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাকে বহিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইমিগ্রেশন বিচারক মামলাটি খারিজ করেছেন। তবে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আপিল আদালতে ওজতুর্ক এখনো তার গ্রেফতার ও আটকাদেশের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করছেন।
এক বিবৃতিতে ওজতুর্ক বলেন, আইসিইর হাতে অন্যায়ভাবে বন্দী হওয়া হাজারো নারীর মতো আমিও যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছি তা মুছে ফেলা যাবে না।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন যে ওজতুর্ক ‘হামাসের পক্ষে কার্যকলাপে’ জড়িত ছিলেন। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ নথিতে স্বীকার করা হয়, তিনি কোনো ইহুদিবিদ্বেষী কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন না এবং কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি।
গত বছরের ২৫ মার্চ, ম্যাসাচুসেটসের সোমারভিলে নিজের বাসার কাছে হাঁটার সময় সাধারণ পোশাক পরা ও মুখ ঢেকে রাখা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। এরপর তাকে লুইজিয়ানার একটি আইসিই আটক কেন্দ্রে এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাখা হয়।
নিজের মুক্তির দাবিতে দায়ের করা মামলায় ওজতুর্কের আইনজীবীরা বলেন, তার গ্রেফতার ও আটক প্রতিহিংসামূলক এবং সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে।
৯ মে গ্রেফতারের ছয় সপ্তাহ পর এক ফেডারেল বিচারক তাকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। সেপ্টেম্বরে তিন বিচারকের বেঞ্চে শুনানি হলেও এখনো চূড়ান্ত রায় হয়নি।
ইমিগ্রেশন আদালত বিচার বিভাগের (ডিওজে) অধীন পরিচালিত হয় এবং এসব কার্যক্রম সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশিত হয় না। ওজতুর্ককে বহিষ্কার করা যাবে না এ মর্মে বিচারকের সিদ্ধান্তটি সিলগালা অবস্থায় দাখিল করা হয়েছে।