২০২৫ সালে সড়কে ঝরেছে ৭৩৫৯ প্রাণ
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- ৭৫৮৪টি দুর্ঘটনায় আহত ১৬৪৭৬ জন
- নিহতের ৩৬.২৯ শতাংশ মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা ৩০২৯
- নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটে ৪০.৫১ শতাংশ
- দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন ১২৩৮৯
প্রতিনিয়ত সড়কে ঝরছে প্রাণ। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটছে মোটরসাইকেলে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে দেশে সাত হাজার ৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাত হাজার ৩৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। দুর্ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক ৫১ শতাংশ ঘটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে তিন হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুই হাজার ৬৭১ জন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রতিবেদন তুলে ধরেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৬২ জন নারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, শিশু নিহত হয়েছেন এক হাজার আট জন, যা মোট নিহতের ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দুর্ঘটনায় এক হাজার ৫৬৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৪১ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ ছাড়াও একই সময়ে ১৩২টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৫১৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪৭৮ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়- মোটরসাইকেলচালক ও আরোহী দুই হাজার ৬৭১ জন, যা ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, বাসযাত্রী ৪১৬ জন, যা পাঁচ দশমিক ৬৫ শতাংশ, পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৪৮০ জন, যা ছয় দশমিক ৫২ শতাংশ, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ২৩৫ জন, যা তিন দশমিক ১৯ শতাংশ, থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদি) এক হাজার ৩৭৬ জন, যা ১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-করিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম) ৪৮৯ জন, যা ছয় দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১২৮ জন, যা এক দশমিক ৭৩ শতাংশ নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে দুই হাজার ৬৯৮টি, যা ৩৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, দুই হাজার ৮৬৫টি বা ৩৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে, ৯৬৮টি বা ১২ দশমিক ৭৬ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে, ৯৯২টি বা ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৬১টি বা শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন : দুর্ঘটনাসমূহের এক হাজার ৭৯২টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, তিন হাজার ৭৩টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, এক হাজার ৫৭৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেয়া, এক হাজার চারটি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ১৩৯টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন : দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহন ২৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ চার দশমিক ৮৪ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদি) ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম) ছয় দশমিক ১৫ শতাংশ, বাইসাইকেল শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্যাডেল রিকশা এক দশমিক ৪২ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন দুই দশমিক ৫৯ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা : দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৮৯টি। বাস এক হাজার ৭১৯, পণ্যবাহী যানবাহন (ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি-লরি-ট্রাক্টর-ড্রাম ট্রাক-ডাম্পার-তেলবাহী ট্যাংকার-কার্গো ট্রাক-পুলিশভ্যান-র্যাবের গাড়ি-সেনাবাহিনীর ভ্যান-মিকচার মেশিন ট্রাক-রোড রোলার-সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক-ভেকু মেশিন) তিন হাজার ৪১৪, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৬০০, মোটরসাইকেল তিন হাজার ১৫৬, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক ইত্যাদি) দুই ১২৯, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-মাহিন্দ্র-টমটম ইত্যাদি) ৭৬৩, বাইসাইকেল ১১০, প্যাডেল রিকশা ১৭৭ এবং অজ্ঞাত গাড়ি ৩২১টি।