গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি

দেশের মহানগরীগুলোতে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং জনজীবনে বিরাজমান নানামুখী সমস্যা সমাধানের দাবিতে দেশের মহানগরীগুলোতে গণমিছিল করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল ঢাকা বাদে অন্যান্য মহানগরীগুলোতে এ মিছিল বের হয়।

রাজশাহী : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অস্থিরতার প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগরীতে ব্যাপক গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনসমাগম।

গতকাল বিকেল ৫টার দিকে নগরীর আলুপট্টি এলাকা থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদণি করে সেøাগানে সেøাগানে মুখরিত হয়ে নগরীর রহমানিয়া হোটেলের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় মিছিল থেকে সরকারের নীতি ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত সেøাগান দেয়া হয়।

মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের জনগণ বর্তমানে নানামুখী সঙ্কটে রয়েছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘ দিনের সমস্যার কারণে শিল্প ও জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা অভিযোগ করেন, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও সহিংসতা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

গণমিছিল ও সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমির ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজশাহী মহানগর নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম মোর্তজা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আহসান বুলবুল, সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার, যুব সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখনজনক। জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আশা আকাক্সক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিণতি ভালো হবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মোতালেব, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহসভাপতি মুজিবুল রহমান প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্য মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মহানগর সহসভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে বিােভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম জিইসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সিলেট ব্যুরো জানান, সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে ও গণভোটের রায়কে বাতিল করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। তারা দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের রাজনীতি শুরু করেছে। এ দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবে না। নব্য ফ্যাসিবাদীদেরও অতীতের ফ্যাসিবাদের পরিণতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে ছাত্র-জনতা রাজপথে রয়েছে।

তিনি গতকাল বাদ আসর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরি উক্ত কথা বলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে একটি গণমিছিল বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে সমাপ্ত হয়।

মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ লেবারপার্টির মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বিডিপি মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু প্রমুখ।

বরিশাল ব্যুরো জানান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, অন্যদের গুপ্ত ট্যাগ দিয়ে একজন তার লন্ডনে পালিয়ে থাকার ইতিহাসকে ঢাকতে চাইছেন। জনগণকে এত বোকা ভাববেন না। তারা সবই বুঝে গেছে। আবারো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই আন্দোলনে এত মানুষ জীবন দেয়নি।

গতকাল বিকেলে বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্ত্যবে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর টাউনহল প্রাঙ্গণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমির প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আতিকুল্লাহ, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক, লেবার পার্টি মহানগর সভাপতি এস এম সোহেল মাহমুদ, এ বি পার্টির সুমন তালুকদারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান। সমাবেশ শেষে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিল টাউনহল থেকে শুরু হয়ে সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, চকবাজারসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রংপুর ব্যুরো জানান, শেখ হাসিনা লাঞ্চ শেষে পালিয়েছে। কিন্তু বিএনপি পান্তা খাওয়ারও সময় পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের এমপি রায়হান সিরাজী। গতকাল বিকেলে রংপুর মহানগরীতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন এবং দেশব্যাপী সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় গণমিছিল শেষে সমাবেশ থেকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে নগরীর ৩৬ জুলাই চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ১১ দল। মিছিলটি নগর ভবন পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেস ক্লাব চত্বর, গ্র্যান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে শেষ হয়।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতের রংপুর মহানগরের আমির এ টি এম আজম খান, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মহানগর সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম খলিল, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আনিসুর রহমান প্রমুখ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন দাবিতে কুমিল্লায় ১১দলীয় জোটের বিক্ষোভ

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে কুমিল্লায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

শনিবার কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো: মোছলেহ উদ্দিন, অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, সেক্রেটারি মাওলানা মাহাবুবুর রহমান, খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগর সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, এনসিপি নেতা মাছুমুল বারী কাউছার।

সমাবেশ শেষে কুমিল্লা টাউন হল মাঠ থেকে গণ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এসে শেষ হয়।