চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা

পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি নিরাপত্তায় রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার জরুরি

Printed Edition
back-4
চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সংলাপে বক্তব্য রাখেন চবি রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ড: মাহফুজ পারভেজ : নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামে এক আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা জোরদারে রাজনৈতিক দলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে, যা দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকারে থাকা জরুরি। বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল একটি আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নয় বরং একটি জাতীয় অপরিহার্যতা। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী বক্তব্যের সীমা অতিক্রম করে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বচ্ছতা, কৌশলগত দূরদৃষ্টি এবং নীতিনির্ভর চিন্তার পরিচয় দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গতকাল রোববার সকালে চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ, বাংলাদেশের (সিসিআরএসবিডি) উদ্যোগে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস বায়েজিদ আরেফিন নগরে হল রুমে অনুষ্ঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা জোরদারে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার’ বিষয়ক আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন সিসিআরএসবিডির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও সিসিআরএসবিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ।

সিসিআরএসবিডির পরিচালক অধ্যাপক সরওয়ার জাহানের সঞ্চালনায় সংলাপে প্যানেল আলোচক ছিলেন চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, সিনিয়র সাংবাদিক ওমর কায়সার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মং রাজা মং প্র¤œ সাইন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কুমার সুই চিং প্র¤œ সাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিচালক, চাকসু কেন্দ্র, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী এবং সংলাপের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন চবির আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশাফউজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার (অব:) শাহ মুহাম্মদ সুলতান ইকবাল।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি, জাতিগত বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক অভিযোগ এবং মাঝে মাঝে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ দ্বারা চিহ্নিত। জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, নীতিনির্দেশনা এবং কৌশলগত প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা সব রাজনৈতিক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সত্ত্বেও, বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, ভূমি বিরোধ, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আন্তঃসাম্প্রদায়িক আস্থার ঘাটতি টেকসই শান্তিকে বাধাগ্রস্ত করে চলেছে। নির্বাচনী ইশতেহারগুলো প্রায়শই এই বিষয়ে নীরব বা অস্পষ্ট থাকে। এই নীতি নোটটি যুক্তি দেয় যে রাজনৈতিক দলগুলোকে এই অঞ্চলের প্রতি তাদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব সংজ্ঞায়িত করার জন্য আরো স্বচ্ছ, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নীতি, চালিত পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পটভূমি, সমস্যা বিবৃতি, নীতির উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত প্রতিশ্রুতি, নীতি এবং কৌশলের জন্য গাইডিং নীতিসহ বিভিন্ন সুপারিশমালা তুলে ধরেন। এ ছাড়াও তিনি ১৮টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে, শান্তিচুক্তির স্পর্শকাতর ও পরস্পরবিরোধী ধারা খ- ২৪ এবং ঘ, ১৭ ধারা পুনর্মূল্যায়ন করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সেনাক্যাম্প বহাল রাখা এবং ও পুলিশের নিয়োগে পাহাড়ি-বাঙালি সমতায়ন, ভূমি কমিশন আইন সংশোধন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতার স্থলে কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সিদ্ধান্ত প্রতিস্থাপন পূর্বক গণতন্ত্রায়ন করা ও ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে সঠিক জরিপের মাধ্যমে সরকারি খাস, বসবাসকারী বাঙালি ও পাহাড়িদের জমি শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করা, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদগুলোর নির্বাচন পাঁচ বছর পরপর করার আইন থাকলেও তা অদ্যাবধি বাস্তবায়িত হয়নি বিধায় নির্বাচনের মাধ্যমে জনমতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা, বাঙালি ও পাহাড়ি উভয় গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা, বৈষম্য দূরীকরণে ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় কোটা বৈষম্য, ট্যাক্স বৈষমা বাবসা ও লাইসেন্স ফি বৈষমা জমিক্রয় বৈষম্য দূর করা, সন্ত্রাস, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মানব, মাদক পাচারে নিয়োজিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়তে সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করা, সংখ্যা, সাম্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদ বণ্টন ও উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বিধান করা, দেশী-বিদেশী প্ররোচনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধের জন্য রাজনৈতিক সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা করা। বিজ্ঞপ্তি।