প্রথম প্রকাশ্য কার্যক্রম

জাবিতে ভর্তিচ্ছুদের সহায়তায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার তথ্যসেবা কেন্দ্র

Printed Edition
3rd-7
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত ছাত্রী সংস্থার হেল্পডেস্ক ও তথ্যকেন্দ্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় : নয়া দিগন্ত

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তায় তথ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করেছে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, জাবি শাখা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে সংগঠনটি, যা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে একটি নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে ‘হেল্পডেস্ক ও তথ্যকেন্দ্র’ ব্যানারে সংগঠনটির সদস্যদের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভিন্ন সেবা দিতে দেখা যায়। জাবি ক্যাম্পাসে এর আগে কখনো নিজস্ব ব্যানারে সংগঠনটির কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ফার্স্ট এইড ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার ব্যবস্থা, নারীদের নামাজ আদায়ের স্থান এবং বিশ্রামের সুবিধা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী বই বিক্রি, সংগঠনের পরিচিতি লিফলেট বিতরণ এবং সমর্থক ফরম পূরণ কার্যক্রমও চলতে দেখা যায়।

ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, জাবি শাখার সভানেত্রী ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “ভর্তিচ্ছু নারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করছি। বসার জায়গা, নামাজের ব্যবস্থা, পানি, পরীক্ষার হলে পৌঁছে দেয়া, অস্থায়ী আবাসনের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”

সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে জাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ব্যতীত অন্যান্য সংগঠনের প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ ছিল সীমিত। ৫ আগস্টের পর আমরা ধীরে ধীরে কার্যক্রম শুরু করি। মেয়েদের সংগঠন হওয়ায় বিষয়গুলো গুছিয়ে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। এখন আমরা একটি সংগঠিত পর্যায়ে পৌঁছেছি।”

তিনি আরো জানান, বর্তমানে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও তিনি আপাতত সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সেশনের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে তথ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন ১০-১৫ জন সদস্য এবং পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে বাইরে ২০-২৫ জন সদস্য কাজ করছেন।

আত্মপ্রকাশের আগে সংগঠনটির কার্যক্রম সম্পর্কে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমরা একেবারে নিষ্ক্রিয় ছিলাম এমন নয়। আমাদের আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক নয়- এমন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে আমরা অংশ নিয়েছি এবং ভবিষ্যতেও অংশ নেব।” তিনি জানান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে আদর্শগত মিল থাকলেও কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।

তথ্যসেবা কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ফাতিমা আক্তার বলেন, “আজ ও আগামীকাল আমার পরীক্ষা। রাতে থাকার জায়গা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখানে এসে আপুদের সাথে কথা বললে তারা তাৎক্ষণিকভাবে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এতে আমরা অনেক উপকৃত হয়েছি।”

এ দিকে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না বলে জানান জাবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব। তিনি বলেন, “আজ সাংবাদিকদের মতো আমরাও প্রথমবার তাদের প্রকাশ্যে দেখেছি। আশা করি, তারা ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে ছাত্রী সমাজের কল্যাণে কাজ করবে এবং ক্যাম্পাসের যৌক্তিক আন্দোলনগুলোতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।” তিনি আরো জানান, ছাত্রীসংস্থার সাথে শিবিরের কোনো সাংগঠনিক বা কর্মপদ্ধতিগত সম্পর্ক নেই, তবে কিছু ক্ষেত্রে আদর্শিক মিল থাকতে পারে।