চাকরির প্রলোভনে ডাকাতি করতে বাধ্য করা হতো
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, গ্রেফতার ৬
- লালবাগে হোসেন হত্যা ঘটনায় গ্রেফতার ১
জুয়েল বিশ্বাস একটি ডাকাত চক্রের নেতৃত্বে ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নতুন সদস্যদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার ডাকাতদলে যুক্ত করত এবং ডাকাতিতে অংশ নিতে বাধ্য করত। রাজধানীর পল্টন থেকে র্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের ছয়জনকে মাইক্রোবাসসহ গ্রেফতার করে র্যাব। গতকাল বুধবার রাজধানীর কাওরান বাজারের র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো- শহিদ মাঝি, মামুন, মিজান, মো: জুয়েল বিশ্বাস, মো: আলামিন দুয়ারী দিপু ও মো: আবুল কালাম আজাদ।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার র্যাব-১০ জানতে পারে যে, পল্টন এলাকায় একটি সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাত চক্র ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডাকাতদলের মাইক্রোবাসটি থামিয়ে জিজ্ঞেস করলে সেখানে থাকা ছয় ব্যক্তি নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র যাচাই করে সেগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। তাদের আটক করে মাইক্রোবাসটি তল্লাশি করা হলে র্যাব লেখা চারটি কটি ও চারটি ক্যাপ, র্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড পাঁচটি, হ্যান্ডকাফ দুইটি, ওয়াকিটকি সেট দুইটি, পিস্তলের কভার একটি, ব্যাটন স্টিক একটি, অতিরিক্ত নম্বর প্লেট দুইটি, স্মার্টফোন পাঁচটি, বাটন ফোন চারটি, এয়ারপড একটি, হ্যান্ড গ্লোভস এক জোড়া, হাতঘড়ি চারটি, নগদ ২০ হাজার ৪৫ টাকা এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত সিলভার-পার্ল রঙের মাইক্রোবাসটি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শহিদ মাঝি, মামুন ও মিজানদের পরিকল্পনামতে আসামি মো: জুয়েল বিশ্বাস ও মো: আলামিন দুয়ারী দিপু আগেও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে দেশে বিভিন্ন স্থানে আসামি মো: আবুল কালাম আজাদের চালিত মাইক্রোবাস ব্যবহার করে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছে। মঙ্গলবার শহিদ মাঝি ও মামুন ফোন করে রাজধানীর পল্টনের আনন্দ ভবনের সামনে আসামিদের একত্রিত করে এবং মিজানের কথামতো মো: আবুল কালাম আজাদ একটি মাইক্রোবাস নিয়ে আসে। পরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় ডাকাতি করার পরিকল্পনা করে।
র্যাব আরো জানায়, জুয়েল বিশ্বাস মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১৬ লাখ টাকা ডাকাতি করে এবং সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়াও রাজধানী পল্টন থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ডাকাতি করে, যার ফলে পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা হয়। জুয়েল বিশ্বাসই চক্রটির নেতৃত্ব দিত। সে নতুন সদস্যদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ডাকাতদলে যুক্ত করত এবং ডাকাতিতে অংশ নিতে বাধ্য করত। জুয়েল গত ২৭ নভেম্বর জেল থেকে জামিনে বের হয়। তার বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়াও আলামিন দুয়ারী দিপুর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ ১৫টি মামলা, সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদকসহ ছয়টি মামলা এবং বোরহান মিয়ার বিরুদ্ধে মাদক আইনের চারটি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার সাজ্জাদ হোসেন গত ২৯ নভেম্বর এবং আবুল কালাম আজাদ গত দুই বছর আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়।
হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার
এ দিকে রাজধানীর লালবাগে শহীদনগরে মোহাম্মদ হোসেনকে (২৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার মূল আসামি আবিরকে (২৫) র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়। ভিকটিমের বাবা শাহ আলম লালবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামি আবিরকে ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরো জানায়, সোমবার রাতে শহীদনগর ২ নম্বর গলির বাসিন্দা কারখানার কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেন বন্ধু নীরবকে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় নীরবের হাতে থাকা লোহার পাইপ চায় আবির।
তখন পাইপ দিতে না চাইলে আবির নীরবকে কয়েকটি চড়থাপ্পড় মারে এবং মোহাম্মদ হোসেন তার প্রতিবাদ করে আবিরকে চড় মারে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা হলেও পরদিন দুপুরে প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে আবির মোহাম্মাদ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।