‘মিটু’তে অনেককে সরালাম, ইন্ডাস্ট্রি এখন নিরাপদ : ডানস্ট

Printed Edition
bino-1
‘মিটু’তে অনেককে সরালাম, ইন্ডাস্ট্রি এখন নিরাপদ : ডানস্ট

আলমগীর কবির

‘মিটু’ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে সরাসরি মুখ খুললেন হলিউড অভিনেত্রী ক্রিস্টেন ডানস্ট। সৌদি আরবের রেড সি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গত বৃহস্পতিবার এক মঞ্চ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের জেরে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতা হারিয়েছেন এবং পুরো পরিবেশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। অনুষ্ঠানে দর্শকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ডানস্টকে জিজ্ঞাসা করেন, পুরুষ অভিনেতা ও পরিচালকরা কি সত্যিই মিটু আন্দোলনের বার্তা পেয়েছেন? জবাবে সোজা কথা বলেন ডানস্ট, ‘আমার মনে হয় আমরা অনেককে দূরে সরিয়ে দিতে পেরেছি। এটি নিশ্চিত যে, তারা এখন আর আগের মতো পার পেয়ে যেতে পারে না।’ তিনি যোগ করেন, ‘এখন সবার চোখই খোলা। তাই আমার মনে হয় এই পরিবেশটি আমাদের সবার জন্য এখন অনেক বেশি নিরাপদ।’

নিজের অভিনয় জীবনের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে ডানস্ট জানান, তিনি খুবই ভাগ্যবান ছিলেন। ‘আমার একটি ভালো পরিবার ছিল, একজন ভালো মা ছিলেন। আমার মা সবসময় কাছাকাছি থাকতেন। আমার জীবনে কখনো এমন কোনো খারাপ ঘটনা ঘটেনি। আমি ছিলাম খুবই সুরক্ষিত।’ ডানস্ট তার আলোচনায় ইন্ডাস্ট্রির ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। বিশেষত, যখন তিনি মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার’ ছবিতে কাজ করেন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, সবাই আমাকে ছোট রাজকন্যার মতো দেখতেন। তখন ক্রিসমাসের সময় ছিল, আর টম ক্রুজ আমার মেকআপ রুমে একটি দারুণ ক্রিসমাস ট্রি রেখেছিলেন।’

২০১১ সালে লার্স ভন ট্রায়ারের ছবি ‘মেলানকোলিয়া’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, যে ছবির জন্য তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। তিনি বলেন, ‘যদিও আমি সেখানে অত্যন্ত বিষণœ একজনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম; কিন্তু শুটিংয়ের সময়টা ছিল আমার জীবনের সেরা সময়।’ তিনি আরো বলেন, সেই সেটে তিনি ‘খুব নিরাপদ বোধ করতেন। লার্সের পুরো দলটি নারীদের নিয়ে তৈরি ছিল। পরিবেশটি ছিল শান্ত ও লালনপালনমূলক। অ্যালেক্সান্ডার স্কার্সগার্ড এবং শার্লট র‌্যাম্পলিংয়ের মতো অভিনেতারাও ছিলেন অসাধারণ।’ ডানস্ট বলেন, এত আরামদায়ক পরিবেশে কাজ করা তার জন্য সবচেয়ে ‘মুক্তিময়’ অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ছিল।

অভিনেত্রী সোফিয়া কপোলাকেও কৃতিত্ব দেন ডানস্ট, যার সাথে তিনি ২০০৬ সালের ছবি ‘ম্যারি আন্তোয়নেত’-এ কাজ করেছিলেন। সেই সম্পর্ক তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

তিনি বলেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রি যখন সব সময় আপনাকে নিজের চেহারা পাল্টাতে বলে বা সৌন্দর্যের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে চায়, ঠিক তখন সোফিয়া কপোলা আমাকে আমার অদ্ভুত দাঁতসহ ভালোবাসতেন। অন্যরা যা আমার মধ্যে পরিবর্তন করতে চেয়েছিল, সোফিয়া সেগুলোকে সুন্দর ভাবতেন।’ ডানস্টের কথায়, ১৬ বছর বয়সে যখন আপনার এত শ্রদ্ধেয় কেউ আপনাকে নিয়ে এমনটি ভাবেন, তখন তা তাকে প্রবল আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল। ‘আমার কোনো বড় বোন ছিল না, তাই এটি আমার জন্য ছিল এক বিশাল অনুপ্রেরণা। এটি এমন নয় যে, আমি খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলাম; কিন্তু আমার ভেতরে একটা নীরব জ্ঞান তৈরি হয়েছিল, যা এই ইন্ডাস্ট্রিতে বড় হওয়ার সময় আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।’ নিজের আসন্ন ছবি নিয়েও আলোচনা করেন ডানস্ট। রুয়েন অস্টলুন্ড পরিচালিত এবং কিয়ানু রিভস অভিনীত এই ছবির নাম ‘দ্য এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম ইজ ডাউন’। মেলানকোলিয়াতে কাজ করার সময়ের সাথে নতুন ছবির অভিজ্ঞতা তুলনা করে ডানস্ট বলেন, মেলানকোলিয়াতে তিনি দর্শকদের কথা ভাবেননি। কিন্তু এই ছবিতে ‘আমি নিজের একটি অংশকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ফলে এটি যখন মুক্তি পাবে, তখন কেমন লাগবে তা ভেবে অদ্ভুত লাগছে। কারণ আমি জানি আমি কী করেছি।’ তিনি সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে এসে বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে আপনি এগুলো ভাবেন না; কিন্তু পরে আপনার মনে হয়, ‘ওহ হ্যাঁ, মানুষ আমাকে এটি করতে দেখবে। বাহ, এটি তো পাগলামি।’