এমপিওভুক্ত হয়নি ১ যুগেও

নানা সমস্যায় জর্জরিত মরিয়ম রশিদ উচ্চবিদ্যালয়

Printed Edition

মুহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া নোয়াখালী অফিস

নানা সমস্যায় জর্জরিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০নং নরোত্তমপুর ইউনিয়নের মরিয়ম রশিদ উচ্চবিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক সঙ্কট ও অবকাঠামোগত সমস্যায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা যায়, ২০১৪ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মোস্তফা কামাল জায়গা দান করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১৫ জন। নরোত্তমপুর ইউনিয়নের একটি বড় অংশের শিক্ষার্থীদের জন্য এটিই একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠ। তবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মাত্র ৯ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মচারী কর্মরত। জনবল কাঠামো অনুযায়ী যেখানে ১৯ জন শিক্ষক প্রয়োজন, সেখানে মাত্র ১০ জন দিয়ে ক্লাস সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় সরকারি বেতনভাতা থেকে বঞ্চিত শিক্ষকরা নামমাত্র সম্মানীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শিক্ষক স্বল্পতায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি, অথচ সরকারি বরাদ্দ ঝুলে থাকায় আমরা কোনো সুবিধা পাচ্ছি না।

২০১৪ সালে নির্মিত টিনশেড ঘরের টিন নষ্ট হয়ে বর্ষাকালে পাঠদান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বিদ্যালয়ে কোনো বিজ্ঞানাগার বা লাইব্রেরি নেই। পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও ভবন নির্মাণের বরাদ্দ না আসায় সরঞ্জামাদি থাকলেও তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়ের সামনে বড় জলাশয়টি ভরাটের অভাবে শিক্ষার্থীরী খেলাধুলা করতে পারছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের শিক্ষানীতি অনুযায়ী এমপিওভুক্তির প্রায় সব শর্ত পূরণ করলেও অজ্ঞাত কারণে ১৭১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় এই বিদ্যালয়টির বরাদ্দ ঝুলে আছে। নোয়াখালী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা বোরহান উদ্দিন বলেন, অবহেলিত এই জনপদের শিক্ষার আলো টিকিয়ে রাখতে স্কুলটি দ্রুত এমপিওভুক্ত করা জরুরি।