ডিশ ব্যবসা নিয়ে বিরোধ
রংপরে তাঁতী দল ও যুবদল নেতার জামিন
Printed Edition
রংপুর ব্যুরো
রংপুরে সিগন্যাল অপারেটর ক্যাবল ওয়ানের অফিসে হামলা ও হত্যার হুমকির মামলায় গ্রেফতার হওয়া জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন (৪৪) এবং জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে (৪৩) জামিন দিয়েছেন আদালত।
গতকাল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত কোতোয়ালির বিচারক রাশেদ হোসাইন তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তামজিদুর রশিদ গালিবকে (৪৩) আটক করেছিল। অন্য দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নগরীর নুরপুর থেকে গ্রেফতার করে মুরাদ কায়সার মিথুনকে (৪৪)। পরে তাদের রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
রংপুর মহানগর কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহিন আলম জানান, আমলি আদালতে হাজিরের পর তাদের আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করলে ৫০০ টাকার পৃথক পৃথক বন্ডে চার্জশিট দেয়ার দিন পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন বিজ্ঞ আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম জানান, ক্যাবল ওয়ানের মালিক আওয়ামী লীগের বড় নেতা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ সালে যুবদল নেতা গালিবকে সরিয়ে অবৈধভাবে ওই এলাকার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন। নিয়ম অনুযায়ী ফিডের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানানো হলেও ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তা দিতে গড়িমসি করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলেই তারা পরিকল্পিতভাবে উসকে দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। আদালত জামিন দিয়েছেন। আমরা আশা করছি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে এই মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পাবে তারা।
এর আগে ডিশ ব্যবসার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার অভিযোগ ওঠে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু, সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ পৃথক দু’টি মামলা করেদেন।
ক্যাবল ওয়ানের ব্যবস্থাপক পরাগ জানান, নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের কামালকাছনা এলাকার ক্যাবল ওয়ানের ফিড মালিক হারুন অর রশিদকে বাদ দিয়ে জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে দেয়ার জন্য তাদের চাপ দেয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি কামাল কাছনা এলাকার ডিশের লাইন কেটে দেয় গালিব ও তার বাহিনী। বিষয়টি নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী ফিড মালিকের স্ত্রী।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, “ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ আমরা জব্দ করেছি। এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ওয়ান কর্তৃপক্ষ দু’টি মামলা করেছে। এর মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’টি মামলায় আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করেছি। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে।”