মিরসরাইয়ের বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্পে বদলেছে কৃষকের ভাগ্য
Printed Edition
এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
একসময় যে ছড়ার পানি ছিল গলার কাঁটা, বর্ষায় ডুবিয়ে দিত ফসলি জমি, বসতবাড়ি আর রাস্তাঘাট। অভিশপ্ত পাহাড়ি ঢল আটকে তৈরি করা বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প এখন ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে। কৃষিতে আধুনিকায়ন ও সেচ প্রযুক্তির মেলবন্ধনে প্রায় দুই হাজার একর অনাবাদি জমি এখন সারা বছরই সবুজ ফসলে ভরে থাকে।
কৃষক সাইফুল্লাহ জানান, বাওয়াছড়া প্রকল্পের ফলে বর্তমানে তারা পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন এবং প্রতিবছর সময়মতো প্রকল্পের পানি দিয়ে বোরো, আমনসহ বারোমাসি শাকসবজি চাষ করছেন। দক্ষিণ এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে বর্ষা মৌসুমে শত শত ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকত এবং এলাকার মানুষ এই ছড়াকে অভিশাপ মনে করত। কিন্তু এখন এই লেকের পানি প্রান্তিক কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।
জানা যায়, ২০০৫ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সেলিম কৃষকদের নিয়ে ‘বাওয়াছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’ গঠন করেন। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের পাশাপাশি এই সমিতির মাধ্যমেই পাহাড়ে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সালাউদ্দিন সেলিম জানান, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে আগে বোরো চাষ হতো না এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সবজি চাষও অসম্ভব ছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০০৫ সালে ৬০ শতক জমি অধিগ্রহণ করে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে এই দ্বিতীয় ক্ষুদ্রাকার পানি সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। বারোমাসি বাওয়াছড়ার মুখে বাঁধ নির্মাণ ও পানি আটকানোর জন্য রেগুলেটর স্থাপন করা হয়, যা এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনেও বড় ভূমিকা রেখেছে। মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্পের কারণে দুই হাজার একর অনাবাদি জমিতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে এবং প্রতি বছরই কৃষি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।