দ্বীনি আন্দোলনে বায়তুশ শরফের মরহুম পীরের অবদান অনস্বীকার্য : শামসুল ইসলাম
Printed Edition
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র আখতারাবাদ বায়তুশ শরফ দরবারের বার্ষিক ইসালে সাওয়াব মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেছেন, আউলিয়ায়ে কেরামের দেখানো পথ ও আদর্শ অনুসরণ করলেই দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি মিলবে। বায়তুশ শরফের মরহুম পীর শাহ আব্দুল জব্বার (রহ:) বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনে অনবদ্য ভূমিকার কথা সর্বজন স্বীকৃত। তিনি জাতিকে সুদ থেকে বাঁচাতে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। তার পরিবার ইসলামী আন্দোলনের জন্য নিবেদিত। তার কলিজার টুকরো সন্তান শহীদ হাফেজ আব্দুর রহিম শাহাদতের নজরানা পেশ করে এই এলাকায় ইকামাতে দ্বীনের দাওয়াত মজবুত করেছেন। তিনি বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় হক্কানি আলেম ও পীর-মাশায়েখদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমান সময়ে নৈতিক অবক্ষয় রোধে বায়তুশ শরফের মতো আধ্যাত্মিক কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) লোহাগাড়ার কুমিরাঘোনায় আখতারাবাদ বায়তুশ শরফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বিশাল এক মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মাহফিলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।
মাহফিলে আ ন ম শামসুল ইসলাম আরো উল্লেখ করেন, দেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে সর্বস্তরে তাকওয়া ও সততার চর্চা করতে হবে। বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেবরা আজীবন মানুষের আত্মশুদ্ধি ও সমাজসেবায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা আমাদের জন্য পাথেয়। এতে আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তাফা আমিন। উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা নুরুল হোসাইন, লোহাগাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আসাদুল্লাহ ইসলামাবাদীসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বড়পীর গাউছুল আজম হজরত মহিউদ্দিন আবদুল কাদের জিলানী (রহ:)-এর স্মরণে বায়তুশ শরফের প্রাণপুরুষ কুতুবুল আলম শাহ সুফী হজরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতর (রহ:) প্রায় সাত দশক আগে কুমিরাঘোনায় এই মাহফিলের প্রবর্তন করেন। ১৯৭১ সালে তার ইন্তেকালের পর বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে জামান শাহ সুফী মাওলানা আব্দুুল জব্বার (রহ:)-এর হাতে এই ইসালে সাওয়াব মাহফিলের সুনাম ও সুখ্যাতি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৮ সালে তার ইন্তেকালের পর তার ছায়াসঙ্গী বাহারুল উলুম, বায়তুশ শরফের মরহুম পীর সাহেব শাহ সুফি মাওলানা মুহাম্মদ কুতুব উদ্দিন (রহ:)-এর তত্ত্বাবধানে মাহফিলটি পরিচালিত হয়। ২০২০ সালে তার ইন্তেকালের পর থেকে বায়তুশ শরফের বর্তমান রাহবার, বিশিষ্ট ইসলামী গবেষক ও লেখক আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী-এর পরিচালনায় ২০২১ সাল থেকে মাহফিলটি নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
মাহফিলে আগত অসংখ্য আলেম-ওলামার মিলনমেলায় পরিণত হয় আখতারাবাদ বায়তুশ শরফ প্রাঙ্গণ। এতে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা আব্দুল হাই নদভী।