লিবিয়া উপকূলে রাশিয়ার ট্যাঙ্কারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

ভূমধ্যসাগরে এটিই নপ্রথম ড্রোন হামলা

Printed Edition

দ্য গার্ডিয়ান

ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় এক হাজার ২৫০ মাইল (দুই হাজার কিলোমিটার) দূরে ভূমধ্যসাগরে এই হামলা চালানো হয়। প্রায় চার বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করার পর ভূমধ্যসাগরে এটিই ইউক্রেনের প্রথম সরাসরি হামলা।

শুক্রবার লিবিয়ার উপকূলে চালানো এই হামলায় ট্যাংকারটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক দিনে ঘটল, যেদিন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন তার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে শ্যাডো ফ্লিট ট্যাংকারে আঘাতের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

শ্যাডো ফ্লিট বলতে সেইসব জাহাজকে বোঝানো হয়, যেগুলো রাশিয়া, ইরান ও ভেনিজুয়েলা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করে থাকে। এসব জাহাজ সাধারণত ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে, মালিকানা গোপন রাখে এবং ট্র্যাকিং এড়াতে বিভিন্ন কৌশলগ্রহণ করে। ইউক্রেনের আগেও কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার শ্যাডো ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিয়েভের দাবি, এসব জাহাজ থেকে অর্জিত রাজস্বই মস্কোর ‘অবৈধ আগ্রাসন’ চালিয়ে নেয়ার অন্যতম অর্থের উৎস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক হাজারেরও বেশি জাহাজ নিয়ে গঠিত এই শ্যাডো ফ্লিট রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অপরিশোধিত তেল রফতানি অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে। ইউরোপের কয়েকজন নেতা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করেন, এসব জাহাজ ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার তথাকথিত হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। হামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের এসব হামলার জবাবে রাশিয়া অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে তিনি ভূমধ্যসাগরের সর্বশেষ হামলা নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের হামলা সরবরাহ ব্যাহত করতে পারবে না, বরং নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর একটি সূত্র এই হামলাকে নতুন ও নজিরবিহীন বিশেষ অভিযান বলে অভিহিত করেছে। তবে কিভাবে ও কোথা থেকে ড্রোন পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সূত্রটি জানায়, হামলার সময় ট্যাংকারটি খালি ছিল এবং এতে পরিবেশগত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, ‘কেনডিল’ নামে ট্যাংকারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর ব্যবহারযোগ্য নয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিল জোগাতে ব্যবহৃত হওয়ায় জাহাজটিকে সম্পূর্ণ বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড বলেছে, এই হামলা রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল রফতানি নেটওয়ার্কের সাথে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক সম্পদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের ড্রোন ব্যবহারের একটি বড় ধরনের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোও সাম্প্রতিক সময়ে শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ জোরদার করেছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব জাহাজ নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।