সঙ্ঘাত এড়াতে তৃতীয় দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
Printed Edition
আলজাজিরা ও আরব নিউজ
সঙ্ঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফায় আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় পরো বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা হচ্ছে। এতে মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তৃতীয় দফার এ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। বিশ্লেষকরা সতর্কতা দিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আগে এটিই সর্বশেষ কূটনৈতিক সুযোগ। এরপর হয়তো মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন তাদের সামনে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির কাছাকাছি আছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঈসমাইলি বাঘাই সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এবার আলোচনা করছেন ‘নমনীয়তা ও গুরুত্বের সাথে’।
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের কাছে সমৃদ্ধকরণকৃত যেসব ইউরেনিয়াম আছে সেগুলো তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তর করতে হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সাথে তারা আপাতত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। এ নিয়ে যদি চুক্তি হয় তাহলে পরবর্তী সময়ে ইরানের মিসাইল ও প্রক্সি বাহিনীকে নিয়েও আলোচনা হবে। ইরান অবশ্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছে তারা তাদের মিসাইল নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করবে না। এ ছাড়া প্রক্সি বাহিনীকে নিয়েও দেশটি কোনো ছাড় দিতে চায় না। কারণ প্রক্সি বাহিনীতে থাকা হিজবুল্লাহ ও হাউছির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরানের স্বার্থরায় বড় ভূমিকা রাখছে। ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনাকে সঙ্ঘাত রোধের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনো অস্পষ্ট।
ট্রাম্প যদিও বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সঙ্কট সমাধান করতে পছন্দ করেন। তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি। আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন এবং ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আমেরিকা বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন কেন সামরিক পদপে নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, আমেরিকা এই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প যাকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে দু’টি বিমানবাহী রণতরী, অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি বহনকারী বিমান রয়েছে।