৫০টির বেশি আসনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ জামায়াতের

অভিযোগ দাখিলের ঘোষণা

Printed Edition

ময়মনসিংহ অফিস

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, অন্তত ৫০টির বেশি সংসদীয় আসনে দলটিকে ‘হারিয়ে দেয়া’ হয়েছে। ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হলেও ফলাফল প্রস্তুত ও ঘোষণার পর্যায়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অনেক আসনে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। এসব আসনে পুনর্গণনা এবং অভিযোগিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালেও দলীয়ভাবে অভিযোগ দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী; সহিংসতা বা চরমপন্থাকে ইসলামী রাজনীতির পথ মনে করে না। নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল বলে দাবি করে তিনি বলেন, ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে’ বাধা দেয়া হয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সততা, সরলতা ও ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না।’ আদর্শের মোকাবেলা আদর্শ দিয়ে, যুক্তির মোকাবেলা যুক্তি দিয়ে এবং নৈতিকতার মোকাবেলা নৈতিকতা দিয়ে করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সহিংসতা পরিহারের কথা বলেন।

নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। তার দাবি, নির্বাচনের আগে যেভাবে সহিংসতা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। নতুন রাজনৈতিক সরকার সহিংসতা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেবে- এমন প্রত্যাশা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জামায়াত সবসময় নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করবে। দলটি কোনো অনিয়মতান্ত্রিক বা হঠকারী সহিংস পন্থাকে সমর্থন করে না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে রাজধানী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া মানুষের মধ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি এবং গণনার সময় বিভিন্ন আসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যেও বিজয়ের আশা তৈরি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তবে পরবর্তীতে ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় ‘মিডিয়ায় ফলাফল বন্ধ করে দেয়া’ এবং ভোট গণনা, ফল প্রস্তুত ও ঘোষণার ধাপে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ৫০টিরও বেশি আসনে এক থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। তিনি জানান, দলীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পুনর্গণনা এবং অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে বিধি অনুযায়ী আবেদন করা হবে।

গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করে সরকার ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সততা, বিনয় ও ভদ্রতাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে আক্রমণাত্মক ভাষা ও আচরণ দেখা যাচ্ছে; তবে দলটি সংযত অবস্থান বজায় রাখবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আদর্শের মোকাবেলা আদর্শ দিয়ে, চরিত্রের মোকাবেলা চরিত্র দিয়ে এবং যুক্তির মোকাবেলা যুক্তি দিয়ে করব। কিন্তু সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথ কেউ যেন বেছে না নেয়- এটাই আমাদের অনুরোধ।’ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ও জনগণের পাশে থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির ড. মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো: শাহাবুদ্দিন, মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও জেলা আমির আব্দুল করিমসহ অন্যান্য নেতারা।