সিরিয়ায় প্রথমবারের মতো বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপন

আলজাজিরা
Printed Edition
inter-2
বিপ্লবের বার্ষিকী পালন করতে দামেস্কের উমাইয়া স্কয়ারে সমবেত জনতা : ইন্টারনেট

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ১৪ বছরে প্রথমবার বিপ্লবের বার্ষিকী পালন করেছে জনগণ। কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও দেশের পতাকা উড়িয়ে ও বিপ্লবী গান গেয়ে শনিবার উদযাপনে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এ দিন গোলাপ ফুলে পুরো শহর ছেয়ে যায়। আলজাজিরার সাংবাদিক রেসুল সেরদার বলেছেন, গোলাপ ফুলকে শান্তির প্রতীক বলা হয়। ভেবে দেখুন, প্রায় ১৪ বছর হেলিকপ্টার থেকে মানুষের ওপর বোমা ছোড়া হয়েছে। আর এখন শান্তি ও পুনর্গঠনের সময় তারা প্রতীকী অর্থে ফুল ছুড়ছেন।

আরব বসন্তের বাতাস সিরিয়াতে এসে পৌঁছালে সেখানেও অস্থিরতা দেখা দেয়। সেই অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দারা শহরে আসাদবিরোধী গ্রাফিতি আঁকে কয়েকজন কিশোর। অবশ্য কয়েক দিন পরই সরকারের হাতে তারা গ্রেফতার ও নিপীড়নের শিকার হয়। এ ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরো পুঞ্জীভূত হতে থাকে। অবশেষে ২০১১ সালের ১৫ মার্চ তারিখে দামেস্ক, আলেপ্পো ও দেরা শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা।

এর জবাবে আসাদ সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে। ওই বছরই জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য পদত্যাগ করে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামে একটি সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী দল গঠন করেন। সরকার ও বিরোধীদের দ্বন্দ্বে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে গৃহযুদ্ধ। গত বছরের শেষে আসাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে এই গৃহযুদ্ধের আপাত সমাপ্তি হয়। আসাদ পরিবারের প্রায় অর্ধশতাব্দীর শাসনের অবসান ঘটানোর ছিল আলকায়েদার সাবেক সহযোগী সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামস বা এইচটিএস। এই গোষ্ঠীর নেতা আহমেদ আল-শারা আপাতত সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন।