কাউখালীতে খাজনার দাখিলায় অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগের পর ফেরত সাড়ে ৩৩ হাজার টাকা

Printed Edition

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

পিরোজপুরের কাউখালী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খাজনার দাখিলা নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী জানান, ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকার খাজনার রসিদ পেতে তাকে ৪৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে অতিরিক্ত নেয়া ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেয়া হয়।

অভিযোগকারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোসনতারা গ্রামের ফোরকান সরদারের ছেলে মাসুদ সরদার। তিনি জানান, জমি ক্রয়ের জন্য হালনাগাদ খাজনার দাখিলা প্রয়োজন হলে তিনি কাউখালী সদর তহশিলদার কামাল হোসেনের কাছে যান। এ সময় চারটি খতিয়ানের বকেয়া খাজনাসহ মোট ৫৯ হাজার টাকা দাবি করা হয়। জমি রেজিস্ট্রির প্রয়োজনীয়তা থাকায় তিনি বিষয়টি স্থানীয় দলিল লেখক মুকুলে আজমকে জানান। পরে তহশিলদারের সাথে কথা বলে ৪৫ হাজার টাকায় দাখিলা দেয়ার কথা বলে দলিল লেখক তার কাছ থেকে ওই টাকা গ্রহণ করেন এবং দাখিলা কেটে জমি রেজিস্ট্রির ব্যবস্থা করেন।

পরে দাখিলার রসিদ চাইলে দীর্ঘ দিন ধরে তা দেয়া হয়নি। পরে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দাখিলা হাতে পেয়ে তিনি দেখেন, চারটি খতিয়ানে মোট ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকার রসিদ কাটা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ২৬ হাজার ৫০২ টাকা আত্মসাতের সন্দেহ দেখা দেয়।

মাসুদ সরদার জানান, অতিরিক্ত টাকা ফেরত চাইলে দলিল লেখক বলেন তিনি ওই টাকা তহশিলদারকে দিয়েছেন। পরে প্রায় এক সপ্তাহ ঘোরাঘুরির পর নিরুপায় হয়ে গত ২ মার্চ পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ দায়েরের এক দিন পর মঙ্গলবার দলিল লেখক মুকুলে আজম স্থানীয় ইউপি সদস্য আজম আলী খানকে সাথে নিয়ে মাসুদের কাছে অতিরিক্ত নেয়া ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেন।

এ বিষয়ে দলিল লেখক মুকুলে আজম বলেন, ‘একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। বিষয়টি এখন সমাধান হয়েছে।’ তবে কাউখালী সদর ইউনিয়নের তহশিলদার কামাল হোসেন বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।