জাপানে ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সুনামি সতর্কতা জারি
Printed Edition
বিবিসি
জাপানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে আবারো শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৬.৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া দফতর-জেএমএ। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। উত্তরের দ্বীপ হনশুর আওমোরি জেলার উপকূলে সাগরের তলদেশে ২০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।
গত সোমবার ওই এলাকাতেই ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এরপর দেশটির উপকূলীয় অঞ্চলে ৮ মাত্রা বা তার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির আবহাওয়া দফতর। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি বলছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পটি সেই শক্তিশালী ভূমিকম্পের সতর্কতার আওতায় পড়ে না। সোমবার উত্তর-পূর্ব জাপানে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত করার পর দেশটির কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছিল যে আরো শক্তিশালী কম্পন ঘটতে পারে। তাকাচি বলেন, ‘মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার পথ বেছে নিতে হবে।’
জাপানে ভূমিকম্প অতি সাধারণ ঘটনা, বছরে প্রায় এক হাজার ৫০০ বার কম্পন অনুভূত হয় দেশটিতে। এমনকি প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তত একবার কম্পন অনুভূত হয় দেশটিতে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাকে আংশিক ঘিরে থাকা আগ্নেয়গিরি ও সামুদ্রিক ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত জাপানে বিশ্বের ৬ দশমিক ০ বা তার বেশিমাত্রার ২০ শতাংশ ভূমিকম্প ঘটে থাকে। অধিকাংশ কম্পন ক্ষতি করে না, তবে কিছু কিছু ঘটনা বড় প্রভাব ফেলে। যেমন ২০১১ সালে আঘাত করা ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প উত্তর-পূর্ব উপকূলে সুনামি সৃষ্টি করে, ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটায়।
প্রতিটি বড় ভূমিকম্প থেকে জাপান গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। দেশের প্রকৌশল ও নির্মাণ কোড উন্নত করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কম্পনের সময় বাসিন্দাদের আরো ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়া যায়।