জামালপুর-১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
Printed Edition
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিগত বছরগুলোতে বিএনপি জামায়াত জোট সক্রিয় থাকায় রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে কেন্দ্র করে। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত সমানতালে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
উভয় দলই ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, পোস্টার আর বিলবোর্ডের মাধ্যমে তুলে ধরছেন নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। স্থানীয়দের মতে, শুধু এ আসনই নয় জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই এবার বিএনপি ও ইসলামী মতাদর্শের দলগুলোর মধ্যে লড়াই হবে।
এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্য ও সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অ্যাডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী নির্বাচন করছেন। এ দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার মাঠে রয়েছেন সক্রিয়ভাবে। এ ছাড়া এনসিপির শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা আব্দুল মজিদ নির্বাচন করছেন। তারা সামাজিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও গণসংযোগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। এই আসনে গণ অধিকার পরিষদ এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-১ আসনটি দুইটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫৭৭ এবং নারী ২ লাখ ১ হাজার ৯২৬ জন ভোটার রয়েছেন। এ ছাড়া একজন ট্রান্সজেন্ডার ভোটার রয়েছেন এ আসনে।
২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত হন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। পরে টানা ১৫ বছর আসনটি থাকে আওয়ামী লীগের দখলে। এবার আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াত ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রউফ তালুকদারের মধ্যে। ভোটাররা মনে করছেন, বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকলে বিএনপির ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে ভাগ হয়ে যেতে পারে। বকশীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েই নিয়মিত গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও পথসভা করে যাচ্ছেন।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ রাজনৈতিক সংস্কার এবং খুনিদের বিচারের দাবি তুলেছে। তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। অতীতের অপশাসন দেখে মানুষ পরিবর্তন কামনা করছে। তিনি আরো বলেন, জোর করে ভোট আদায়ের দিন শেষ। জামালপুরের ভোটাররা এবার জামায়াতে ইসলামকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি প্রার্থীর জনপ্রিয়তা থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি এবার এই আসনে নির্বাচনী সমীকরণকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে। মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ভাগ্য নির্ধারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভোটারবিহীন নির্বাচনে টানা চারবার আওয়ামী লীগের দখলে ছিল জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনটি।