উড়ুক্কু মাছ বৃত্তান্ত

Printed Edition
nittodin-1
উড়ুক্কু মাছ বৃত্তান্ত

মো: আবদুস সালিম

পাখি আকাশে উড়ে; সবাই জানো। প্রায় সব পাখি আকাশে উড়লেও এদের আমরা উড়ুক্কু পাখি বলি না; বরং এদেরকে জাত-প্রজাতিভেদে বিভিন্ন নামে ডাকি। কোনো মাছ যদি আকাশে উড়ে তখন আমরা ওই মাছকে ঠিকই ‘উড়ুক্কু মাছ’ বলে থাকি। আকাশে উড়তে পারে, এমন ধরনের মাছ পৃথিবীতে সত্যিই আছে। অবাক করা বিষয় হলো, উড়ুক্কু মাছ জলের উপরিভাগ থেকে ৮-৯ মিটার উচ্চতায় অল্প দূরত্ব অনায়াসে অতিক্রম করতে পারে। এটি সামুদ্রিক মাছ; আকারের তুলনায় এর শক্তিও বেশি। ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোসে এ মাছ প্রচুর পাওয়া যায়; ওই দেশের জাতীয় মাছ এটি। দেশটিকে বলা হয় ‘উড়ুক্কু মাছের ভূমি’।

এ মাছের ইংরেজি নাম ফ্লাইং ফিশ (ঋষুরহম ভরংয); বৈজ্ঞানিক নাম ঊীড়পড়বঃরফধব.

উড়ুক্কু মাছ দ্রুত সাঁতার কাটে । এদের উড়ার মূল শক্তি হলো শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পাখনাগুলো। উড়ার আগে এরা যতটুকু পারে পাখনাগুলো প্রসারিত করে ডানার মতো গঠন করে; শক্তি সঞ্চার করে । অনেক সময় ঝাঁক বেঁধে উড়ে। সমুদ্রে দল বেঁধে সাঁতরায়। দ্রুত সাঁতার কাটার সময় ওরা অনেক সময় জলের উপরের দিকে উঠে আসে। তারপর দ্রুত উড়াল দেয় পাখনা মেলে। ঢেউয়ের অবস্থা ও বাতাসের গতি বুঝে কয়েক সেকেন্ড ভেসে থাকতে পারে আকাশে। মূলত শত্রু বা মাছ শিকারিদের দেখামাত্র এরা উড়াল দেয় আকাশে; আসলে পানি থেকে সামান্য উপরে ।

এ মাছ প্রায়ই দেখা যায় উষ্ণমণ্ডলীয় স্থানগুলোতে। জেনে অবাক হবে, ৮-৯ কোটি বছর আগেও ছিল এ মাছ। অর্থাৎ এর অস্তিত্ব ছিল ডাইনোসর যুগেরও আগে। এদের বুকের পাখনাগুলো ফাঁপা। এ কারণে এরা আরামে বাতাসে উড়ে; পানির উপরে আসে প্লাঙ্কটন-জাতীয় খাবারের খোঁজে। পানির নিচে এদের চলার গতি ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। এদের পছন্দ নানান রঙের আলো। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাছ শিকারিরা তাদের জালের ফাঁদে ফেলে আটকে ফেলে। উড়ুক্কু মাছ অন্যান্য মাছের মতো মজা করে খাওয়া যায়। বাণিজ্যিক কারণে এ মাছ প্রচুর ধরা পড়ে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোস, ভারত প্রভৃতি দেশে।

সাগরেই ঘটে এ মাছের প্রজনন। জলের উপরিভাগে আঠাল ডিম ছাড়ে স্ত্রী মাছ। ডিম পাড়ার সময় ওরা চলে আসে জলের উপরের অংশে কিংবা স্রোতময় স্থানে। দৈর্ঘে ওরা ২০-৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে; কিছু আকারে বেশ বড়ও হয়ে থাকে। । এ মাছের আয়ুঙ্কাল প্রায় পাঁচ বছর।