টঙ্গীতে বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ আর ভাইরাল মন্তব্যে টালমাটাল বিএনপির রাজনীতি
Printed Edition
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে ধানের শীষের গণমিছিলে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণ ও পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির নির্বাচনী গণমিছিলের আগে টঙ্গী বাজার ও হোন্ডা রোড এলাকায় রাখা গ্যাস বেলুন হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে অন্তত ১৭ জন নেতাকর্মী দগ্ধ হন। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিএনপির টঙ্গী পূর্ব থানা কমিটির বর্তমান ও সাবেক দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আরো অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর যাদের শরীরের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবির নিচে হাজারো মন্তব্যে বিএনপির রাজনীতি ও মিছিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন নেটিজেনরা।
এ নিয়ে ইফতেখার রায়হান নামের স্থানীয় একজন সাংবাদিক তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মন্তব্য করেন, ‘মাজার-বস্তির মাদক ব্যবসায়ী, নেশাখোর নিয়া মিছিল করলে গ্যাঞ্জাম হইবোই! জামায়াত-শিবিরের মিছিলের শৃঙ্খলা দেখে আপনাদের শেখা উচিত!’
এই মন্তব্যটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বহু ব্যবহারকারী এতে সমর্থন জানিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ঘাটতির কথা তুলে ধরেছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন অভিযোগ করে বলেন, সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরণের সমর্থকরাই প্রথম হামলা চালায়। অন্য দিকে কিরণ দাবি করেন, বেলুন বিস্ফোরণের পর সুমনের লোকজন তার অনুসারীদের ওপর চড়াও হয়।
জিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পরবর্তী সংঘর্ষটি অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময়ে এমন ঘটনা ও প্রকাশ্য সংঘর্ষ শুধু একটি দলের ভাবমূর্তিই ক্ষুণœ করে না, বরং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।