ত্রাণে বাধা ও ইসরাইলি হামলায় রমজানেও থামেনি রক্তপাত
গাজায় মানবিক বিপর্যয়
Printed Edition
আলজাজিরা, টিআরটি ও এপি
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে থামেনি ইসরাইলি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী হামলা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মানবিক সহায়তায় কঠোর বাধা এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে পবিত্র রমজান মাসেও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া স্বজনদের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় আরো ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৯৫ জনে এবং আহতের সংখ্যা এক লাখ ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই নতুন করে আরো ৬২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা সিটির জেইতুন এলাকা, খান ইউনুস ও রাফাহর মাওয়াসি অঞ্চলে ভারী বিমান ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু লাশ চাপা পড়ে থাকলেও উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।
ত্রাণ প্রবেশে বাধা ও খাদ্য সঙ্কট
জাতিসঙ্ঘের মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে গাজায় পাঠানো অর্ধেকের বেশি মানবিক সহায়তা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বাধার কারণে পৌঁছাতে পারেনি। মিসর করিডোর দিয়ে আসা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ট্রাক ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর ফলে গাজায় খাদ্য রেশনের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে উত্তর গাজায় পানি ও স্যানিটেশন স্থাপনা পরিদর্শনের আবেদন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইসরাইল। এ ছাড়া কৃত্রিম অঙ্গ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধাহত হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মেনে গাজায় অবাধ সহায়তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিম তীরের বাস্তবিক সংযুক্তি ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ধ্বংস করছে। একই অধিবেশনে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বুরাক আকচাপার বলেন, যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ছাড়া রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব নয়।