মানবাধিকার দিবসে আলোচনায় অ্যাটর্নি জেনারেল

জুলাই অভ্যুত্থান জাতি হিসেবে আমাদেও বড় অর্জন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তিনি দাবি করেন, এই অভ্যুত্থানের পর একটি গুম কিংবা ক্রসফায়ারের ঘটনাও ঘটেনি, যা জাতি হিসেবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।

গতকাল বুধবার মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘ইউএন হিউম্যান রাইটস অফিস বাংলাদেশ’ ও ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’ যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক কারণে পুলিশ নিজ উদ্যোগে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেনি। তবে বেশ কিছু মিথ্যা মামলা হয়েছে, সেসব মিথ্যা মামলা ঠেকাতে সরকার আইনে নতুন বিধান সংযোজন করেছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘মামলার এজহারে ১০০, ২০০ বা ৩০০ জনের নাম উল্লেখ করে এসব মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে ভিকটিম বা ভিকটিমের পরিবার। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা মামলা দায়েরের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘আজকের দিনে অনেকের মধ্যে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা আছে। অনেকেই বলছেন, মানবাধিকারের কতটুকু উন্নতি হয়েছে; আবার অনেকে বলছেন মানবাধিকার ক্ষয়িষ্ণু ধারায় যাচ্ছে।’

এরপর তিনি তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি জোরপূর্ব গুমের ঘটনাও ঘটেনি। কোনো মানবাধিকার সংগঠন বা গণমাধ্যম এ নিয়ে একটি রিপোর্টও দিতে পারেনি। এ ছাড়াও একটি ক্রসফায়ারের ঘটনাও ঘটেনি, এটা সরকারের আন্তরিকতার ফল।’

বিগত সরকারের সাথে তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রযন্ত্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য নিজেদের যেভাবে সম্পৃক্ত করেছিল বিগত নৈরাজ্যবাদী শাসনামলে বা ফ্যাসিস্টদের আমলে, জুলাই-পরবর্তী সরকার মানবাধিকারের বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ বাদি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছে, যেন মিথ্যা কাহিনীর মামলা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের না হয়।’

আইনগত সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে সরকার আরেকটি কাজ করেছে। আমরা দেখেছি, এ ধরনের মিথ্যা মামলা ঠেকাতে আইনের পরিকাঠামোয় কোনো মেকানিজম নেই। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারার পরে ১৭৩(ক) ধারা সংযোজন করা হয়েছে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার অফিসের (ওএইচসিএইচআর) প্রধান হুমা খান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যে পরিমাণ উন্নত হওয়ার কথা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। আগের অনেক কালচার এখনো রয়ে গেছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হলে পুরনো কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সরকারকে।’