মাদুরোকে পদত্যাগ করে ভেনিজুয়েলা ছাড়তে আলটিমেটাম ট্রাম্পের
Printed Edition
মিয়ামি হেরাল্ড
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি কঠোর ‘আলটিমেটাম’ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাদুরো যদি অবিলম্বে পদত্যাগ করেন, তাহলে দেশ ত্যাগের পর তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদুরো ও ট্রাম্পের মধ্যে গত নভেম্বরে টেলিফোনে কথোপকথনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সূত্রগুলো বলেছে, মাদুরো, তার স্ত্রী এবং তার ছেলে যদি এখনই পদত্যাগ করেন, তবে তাকে ‘নিরাপদ পথ’ দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে আমেরিকা প্রস্তুত। একটি সূত্রের মতে, নেতাদের ফোনালাপ ছিল ‘সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে শেষ প্রচেষ্টা।’ সংবাদপত্রটি উল্লেখ করেছে, ব্রাজিল, কাতার এবং তুরস্ক এই ফোনালাপের আয়োজন করেছিল। তবে ওয়াশিংটনের দাবি মাদুরো সরকার প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এরই মধ্যে গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনিজুয়েলার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণরূপে বন্ধ’ বলে বিবেচিত হবে। হেরাল্ড আরো জানিয়েছে, মাদুরো সরকার ওয়াশিংটনের নেতার সাথে ফোন কলের আরেকটি সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা করেছিল; কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। ওয়াশিংটন ভেনিজুয়েলার সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না দিয়ে অভিযোগ করেছে, মাদক পাচার রোধে মাদুরো যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যে সিআইএকে ভেনিজুয়েলায় ‘গোপন অভিযান’ পরিচালনার অনুমতি দিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বারবার জানিয়েছে, ওয়াশিংটন শিগগিরই ভেনিজুয়েলার ভূখণ্ডে হামলা শুরু করতে পারে। গত ২৭ নভেম্বর ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলা থেকে মাদক পাচার রোধে আমেরিকা ‘খুব শিগগিরই স্থল অভিযান’ শুরু করবে। তবে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ কেমন হবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নৌযানে মার্কিন হামলার তদন্ত করবে ভেনিজুয়েলার পার্লামেন্ট
এ দিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ভেনিজুয়েলার উপকূল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ‘মাদক পাচারকারী’ নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠন করবে ভেনিজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় পরিষদ। পার্লামেন্টটির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ রোববার এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রদ্রিগেজ বলেন, তাদের তদন্তে শুক্রবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের এক খবরের তথ্য যাচাই করে দেখা হবে, যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সেপ্টেম্বরে এক হামলায় একটি নৌকায় থাকা সবাইকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বেঁচে যাওয়া দুইজনকে হত্যায় পরে দ্বিতীয় দফা হামলাও চালানো হয়, বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। রয়টার্স জানায়, সংবাদ সম্মেলনে রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা ব্যাপক ও নিবিড় তদন্ত করতে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, তদন্তে ভেনিজুয়েলার কৌঁসুলির কার্যালয়ও যুক্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক মাস ধরে ভেনিজুয়েলার আশপাশে কথিত ‘মাদক পাচারকারী নৌযানে’ একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের সৈন্য সমাবেশও দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ওয়াশিংটন বলছে, মাদুরো ও তার সরকারের সাথে মাদক পাচারকারীদের যোগসাজশ আছে। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ভান, তাদের মূল লক্ষ্য ভেনিজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেয়া। এ জন্যই তারা ভেনিজুয়েলায় সরকার বদলাতে চায়।
শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, ভেনিজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশসীমা ‘পুরোপুরি বন্ধ’ বলেই সবার ধরে নেয়া উচিত। এ সম্পর্কে তিনি আর বিস্তারিত না বললেও একে ভেনিজুয়েলার ওপর আসন্ন মার্কিন হামলার ইঙ্গিত বলে অনেকে মনে করছেন। ভেনিজুয়েলার সরকার ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ আখ্যা দিয়েছে।