সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলে যমজ ভাই

Printed Edition
Sports-6
মহাখালী একাদশের যমজ ভাই শুভ ও অপূর্ব : নয়া দিগন্ত

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে যমজ বোনের উপস্থিতি ছিল। বয়সভিত্তিক জাতীয় দল থেকে সিনিয়র জাতীয় দল পর্যন্ত ছিলেন আনাই মুগিনি ও আনু চিং মুগিনি। ২০১২ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে ছিলেন দুই যমজ বোন রিক্তা ও মুক্তা। তারা অবশ্য বেশি দিন খেলতে পারেননি। দিনাজপুরের যমজ বোন তনিমা বিশ্বাস ও তন্বী বিশ্বাস দেশের নারী ফুটবলে পরিচিত মুখ। তনিমা তো জাতীয় দলেও ছিলেন। বাংলাদেশের ঘরোয়া পুরুষ ফুটবলে দুই ভাই-তিন ভাইয়ের উপস্থিতি ছিল। বর্তমান জাতীয় দলে খেলছেন দুই সহোদর সাদউদ্দিন ও তাজউদ্দিন। তাদের আরেক ভাই আমজাদ শরীফ এবারের সিনিয়র ডিভিশনের ফুটবলার। সেই সিনিয়র ডিভিশনেই এবার মিলল যমজ ভাই। সিনিয়র ডিভিশন ফুটবলে মহাখালী একাদশের হয়ে খেলা এই যমজ ভাইয়েরা হলেন- সাব্বির আহমেদ অপূর্ব ও শাহরিয়ার আহমেদ শুভ। বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলে এটা বিরল একটি ঘটনা। অবশ্য দুই যমজ রেফারি আছেন বাংলাদেশের ফুটবলে। তারা হলেন- ইমন ও লিমন।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের দুই যমজ ভাই অপূর্ব ও শুভ অবশ্য এই প্রথম ঢাকা লিগে খেলছেন না। তারা এর আগে খেলেছেন। গত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে দুই ভাই পরেছিলেন ওয়ারীর জার্সি। তারও আগে বসুন্ধরা কিংস অনূর্ধ্ব-১৮ দলে এক সাথেই খেলেছেন তারা। অপূর্ব-শুভরা দুই ভাই এক বোন। তাদের ফুটবলে আসাটা বাবার অনুপ্রেরণায়। তাদের বাবা ঢাকা লিগের ফুটবলার। ছিলেন ডিফেন্ডার। পিডব্লিউডিসহ আরো কয়েক ক্লাবে সাত বছর খেলেছেন। বাবার হাত ধরেই দুই ছেলের ফুটবলে আসা। অপূর্ব জানান, ‘আমার বাবাই আমার ফুটবলের গুরু। উনিই আমার প্রথম ফুটবল কোচ। যেহেতু বাবা ফুটবলার ছিলেন তাই এই খেলাটা আমার রক্তে মিশে গেছে।’

এখন পর্যন্ত দুই ভাই এক সাথে একই দলে খেলে যাচ্ছেন। একই সাথে বেড়ে উঠা। একই সাথে স্কুলে যাওয়া সব। তবে গৌরীপুর কলেজে অবশ্য দুই ভাই ভিন্ন দুই সাবজেক্টে অনার্স পড়ছেন। শুভ পড়ছেন বাংলাতে। আর অপূর্বের সাবজেক্ট মনোবিজ্ঞান। খুবই অল্পসময়ের মধ্যে দুনিয়াতে আসা এ দুই ভাই বিভিন্ন এলাকায় খ্যাপও খেলতে যান একত্রে। খেলেনও একই দলে। তবে কিছু দিন আগে ময়মনিসংহের স্থানীয় এক টুর্নামেন্টে দুই ভাই ভিন্ন ভিন্ন দলে খেলেছিলেন। এতে অবশ্য অপূর্বের দলের কাছে হেরেছিল শুভ এর দল। যমজ ভাইয়ের সেই ম্যাচ দর্শকরা দারুণ উপভোগ করেছিল। অপূর্ব জানান, আমরা যখন দুই ভাই বলের দখল নিতে লড়াই করতে যেতাম তখন দর্শকরা হৈ-হুল্লুড় করত।

এক সাথেই পথ চলা। তাই তাদের স্বপ্ন একই সাথে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। এ দুই ভাই-ই আক্রমণ ভাগের ফুটবলা। অপূর্ব জানান, ‘আমি রাইট উইংয়ে খেলি।’ শুভ বলেন, ‘আমি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।’ পুরো পরিবারের মতোই দুই ভাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আদর্শ খেলোয়াড়ের তালিকায় লিওনেল মেসি ও নেইমার। দুই ভাইয়েরই ভীষণ খারাপ লাগে দল হারলে। সেই সাথে কষ্টে পোড়েন গোল মিস করলে। কারণে তারা যে ফরোয়ার্ড লাইনের ফুটবলার।

বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলে অবশ্য শুভ-অপূর্বের আগেও যমজ ভাই খেলেছেন। সাবেক স্ট্রাইকার মুরাদ আহমেদ মিলন ও গোলরক্ষক সৈনিক তথ্য দেন, আমরা ২০০০ সালের দিকে ঢাকা লিগে দুই যজম ভাইকে পেয়েছিলাম। গাজীপুরের এই দুই ভাইয়ের নাম ছিল বকুল ও গোলাপ। তাদের চেহারায় এতটাই মিল যে, এক জনের পরিবর্তে অপরজনকে মাঠে নামালে কেউ-ই বুঝতে পারত না। দুইজনই ছিলেন মিডফিল্ডার। সম্ভবত মহাখালী একাদশে খেলেছিলেন। আমরা গাজীপুরের মৌচাকে খ্যাপ খেলতে গেলে পেতাম তাদের।