অর্থনীতিবিদ জহুরুল ইসলামের ইন্তেকাল

Printed Edition
back-4
অর্থনীতিবিদ জহুরুল ইসলামের ইন্তেকাল

বাংলাদেশ

ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের (বিআইআইটি)

প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল, খ্যাতিমান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রথিতযশা

অর্থনীতিবিদ ও গবেষক মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম আর নেই। তিনি গত ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঢাকার উত্তরায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিআইআইটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবদুল আজিজ। তিনি মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।

ড. এম আবদুল আজিজ বলেন, মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম ছিলেন দেশের ইসলামিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং, উন্নয়ননীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি গবেষণার একজন পথিকৃৎ। ইসলামিক অর্থনীতি ও চিন্তাচর্চায় তার অনন্য অবদান রয়েছে। দেশে ইসলামিক অর্থনীতি গবেষণা বিস্তারে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। লেখালেখি ও গবেষণায় তার জীবন ছিল সমৃদ্ধ। মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তার দূরদৃষ্টি, নিষ্ঠা ও শ্রেষ্ঠত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও স্থায়ী অনুপ্রেরণার অসাধারণ উৎস হয়ে থাকবে, বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। চিন্তা ও জ্ঞান সংস্কারে নিবেদিত একটি থিংকট্যাংক বিআইআইটির অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিআইআইটির গবেষণা, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, ইসলামায়ন অব নলেজ আন্দোলন এবং সভ্যতার আন্তঃসংলাপ প্রতিষ্ঠায় অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন ছিল অসাধারণ সব সাফল্যে ভরপুর। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন এবং আইসিএবির অধীনে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ইসলামিক ইকোনমিকস রিসার্চ ব্যুরো প্রতিষ্ঠা (১৯৭৬), দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ইসলামিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (১৯৮৩) প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই সেন্টার (ডেসা), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজউকের ফিন্যান্স ডিরেক্টরসহ অনেক জাতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম অর্থনীতি, ব্যাকিং, ফাইন্যান্স, সমাজ ও সংস্কৃতিবিষয়ক ১৩টিরও বেশি বই ও বহু প্রবন্ধ রচনা করেছেন। বিশ্বখ্যাত এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামিক ইকোনমিকসে তার ‘ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ডেভেলপমেন্ট অব মুসলিম কান্ট্রিজ’ শীর্ষক গবেষণা নিবন্ধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গবেষণা, সেমিনার ও আন্তর্জাতিক সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটরস প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। সামাজিক সংগঠক ও শান্তি-উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি এশিয়ান মুসলিম অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (আমান) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ইসলামিক বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে দেশময় ছড়িয়ে দিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা, গবেষণা ও মানুষের জীবনমানের অগ্রগতিতে তিনি সর্বদা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তিনি কোনো দল বা গোষ্ঠীর ছিলেন না, ছিলেন পুরো জাতির ও উম্মাহর সম্পদ।

তিনি কানাডায় স্থায়ী হওয়ার পরও কমিউনিটি সেবায় যুক্ত ছিলেন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ অন্টারিও ভলেন্টেয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড ২০১৩ লাভ করেন। বিজ্ঞপ্তি।