ঝালকাঠি পৌরসভার প্রকল্পে অনিয়ম ক্ষোভ নাগরিকদের
Printed Edition
আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
ঝালকাঠি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। খাল খনন, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাথ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পগুলো নির্ধারিত নিয়ম মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (স্থানীয় সরকার) কাওছার হোসেন পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় খাল খনন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ফুটপাথ নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকার সাতটি খাল খননের প্রকল্প নেয়া হলেও ছয়টির কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি খালের কাজই শুরু হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এলোমেলো খননের কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা বেড়েছে এবং খালগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কাজ সম্পূর্ণ না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় তিন কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক, ড্রেন, ফুটপাথ ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, কয়েকটি সড়কের কার্পেটিং কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যেতে শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পের নামফলকে বরাদ্দের তথ্য উল্লেখ না করায় স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, জেলা সুজনের সম্পাদক ও টিআইবির সনাক সদস্য ইসমাঈল মুসাফির বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টি এম রেজাউল হক রিজভী বলেন, খাল খনন প্রকল্পের প্রায় ৫৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সে অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা হয়েছে। রাস্তার কার্পেটিংয়ে ত্রুটির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। অন্য কাজগুলোও নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে এবং কোনো ত্রুটি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাওছার হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।