শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থায় আরো আগ্রাসী রাশিয়া
Printed Edition
আলজাজিরা
রাশিয়া এবার যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নতুন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলের দাবি করেছে- যা ইউক্রেন ‘প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। একই সময় শান্তি আলোচনার অগ্রগতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার দাবি করে, প্রায় এক বছর ধরে ঘিরে রাখা পূর্বাঞ্চলীয় শহর পোকরোভস্ক পুরোপুরি দখলে নিয়েছে তারা। পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলুসভও ব্যক্তিগতভাবে একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। আরো বলা হয়, খারকিভের উত্তরাংশের ভভচানস্ক ও কুপিয়ানস্ক থেকেও ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।
ইউক্রেনের যৌথ বাহিনী কমান্ড এই দাবি নাকচ করে জানায়, কুপিয়ানস্কের বেশিরভাগ এলাকা এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। পোকরোভস্ক, ভভচানস্ক ও কুপিয়ানস্ক- তিন জায়গাতেই লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন। পোকরোভস্কে রেললাইন ঘেঁষা উত্তরাংশ এখনো ইউক্রেনীয় বাহিনী ধরে রেখেছে। সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি জানান, কুপিয়ানস্কে রুশ অনুপ্রবেশ ঠেকানো হয়েছে এবং উত্তর দিকের সেতু এলাকার রুশ ঘাঁটিগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার এসব দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মস্কো পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে। তিনি প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ইউরি উশাকভের সাথে শান্তি আলোচনা করেন। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলছে, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রভাবিত করতে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ‘দখলের দাবি’ প্রচার করছে। উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন আলোচনার ২৮ দফা প্রস্তাব এখন কমে ২০ দফায় নেমেছে, যা চারটি আলাদা নথিতে ভাগ করা হয়েছে। তবে রাশিয়া এখনো কোনো প্রস্তাবেই সম্মতি দেয়নি।
পুতিন তার যুদ্ধ-অবস্থান আরো স্পষ্ট করে জানিয়ে বলেন, পোকরোভস্ক দখল ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি ভালো ভিত্তি’। তিনি ইউক্রেনকে সাগরবিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন, যার অর্থ ওডেসা ও মাইকোলাইভ দখল করা। শান্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের দখলকৃত এলাকা থেকে সরে গেলেই যুদ্ধ থামবে, নইলে শক্তি প্রয়োগে সরিয়ে দেয়া হবে।
পুতিন আরো বলেন ‘ইউরোপ যদি যুদ্ধ চায়, আমরা প্রস্তুত আছি’- যা সম্ভাব্য বিস্তৃত সঙ্ঘাত নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়েছে। একই সাথে তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ‘সার্জিক্যাল’ পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে গতি নিয়ন্ত্রণ করছে।
এ দিকে শিক্ষা, জ্বালানি ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ ইউক্রেন জুড়ে রাশিয়ার আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া প্রায় এক হাজার ১০০ ড্রোন ও ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। ইউক্রেন দাবি করে এক হাজার ড্রোন ও অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে।