হেরে বিদায় বাংলাদেশের
ভিয়েতনাম ১-০ বাংলাদেশ
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
একেক দিন একেক জনের ভুল। যে কারণে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা হলো না বাংলাদেশের। ভিয়েতনামের বিপক্ষে জিতলেই শেষ আটে। ড্র করলেও চান্স থাকবে। তবে হারলে সব শেষ। পিটার জেমস বাটলার বাহিনী সব হারানোর কাজই করেছে। জয়তো দূরের কথা ড্রও করতে পারেনি আসিয়ান অঞ্চলের দেশটির সাথে। ৪৯ মিনিটে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মারাত্মক ভুলের ফলে হজম করা গোলেই ম্যাচটি ১-০তে জিতে নেয় ভিয়েতনাম। ফলে লাল-সবুজদের টপকে থাইল্যান্ডের পাশর্^বর্তী দেশটি চলে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে। আর অর্পিতা বিশ^াসদের খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে থাইল্যান্ড থেকে।
ঠিক সিনিয়র নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে যেমন বাংলাদেশ কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি তেমনি অনূর্ধ্ব-২০ আসরেও। অস্ট্রেলিয়ার মতো থাইল্যান্ডের মাঠেও শেষ ম্যাচে জয়ের দরকার ছিল অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জয়ীদের। তা হলো না। এই আসরেই বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২ গোলে এগিয়ে থেকেও ডিফেন্ডার আফরিন ও নবীরনের ভুলে হেরেছিল ২-৩ গোলে। কাল গোলরক্ষক মিলির ভুল ও স্ট্রাইকার সাগরিকার গোল মিসই বিশ^কাপে খেলার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
কাল ভিয়েতনামেরও জয়ের বিকল্প ছিল না। কারণ তারা পিছিয়ে ছিল। সেই জয়ের মিশনেই কাল ব্যাংককে শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলা শুরু ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩৭ এ থাকা দলটি। অন্য দিকে কোচ বাটলার চীনের কাছে ০-২ গোলে হারা দল থেকে শান্তি মার্ডিকে বাদ দিয়ে নবীরনকে একাদশে ঠাঁই দিয়ে দল মাঠে নামান।
সাবধানে খেলতে থাকা কাউন্টারে গোলের সুযোগ খুঁজতে থাকে। ১৩ মিনিটে ডিফেন্স থেকে আসা লবে গোলের সুযোগও পান সাগরিকা। কিন্তু গতিতে গায়ে গায়ে লেগে থাকা বিপক্ষ দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করলেও পারেননি ভিয়েতনামের গোলরক্ষককে হারাতে। চীনের বিপক্ষে জোড়া গোল করা এই ফুটবলারের নেয়া ডান পায়ের দুর্বল শট বাম দিকে শরীর ফেলে রুখে দেন ভিয়েতনাম কিপার। ২৪ মিনিটে সাগরিকা বলে পা লাগাতে না পারায় গোল আসেনি। বিপরীতে ভিয়েতনাম গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও ২১ ও ২৮ মিনিটে বল জালে পাঠাতে পারেনি।
গোলশূন্যতে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝ রেখা বরাবর ফ্রি-কিক পায় থাইল্যান্ড। মাঝ মাঠ থেকে নেয়া সেই ফ্রি-কিক বাংলাদেশ পোস্টের সামনে এলে মিলি আক্তার এগিয়ে গিয়ে সেই বলের দখল নিতে যান। কিন্তু তিনি বলের ফ্লাইট মিস করায় হাত ফসকে যায় তা। এতে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নগুয়েন থাই থুইও ডান পায়ের টোকায় বল জালে পাঠান।
বিরতির পর কোচ মাঠে নামান কুশলী মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীকে। সাথে মুনকি আক্তার। পরে তৃষ্ণা রানী। স্বপ্না মাঠে আসার পর খেলায় গতি বাড়লেও গোলের চান্স সেভাবে হয়নি। অবশ্য পিছিয়ে পড়ার পর উমেহেলা ফাঁকায় বল পেলেও গোল করতে না পারার জেরই বাংলাদেশ দলকে টানতে হলো। চূড়ান্ত পর্বের ‘এ’ গ্রুপে চার দলের মধ্যে চতুর্থ হতে হলো।