ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার মামলা নিতে গড়িমসি শাহবাগ থানার
Printed Edition
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের মামলার পর এবার ডাকসু নেতাদের দায়ের করা মামলাও গ্রহণ করেনি শাহবাগ থানা, এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেন, তারা মামলা করতে গেলেও পুলিশ জানায়, মামলা নেয়ার সিদ্ধান্ত ‘ওপর থেকে’ আসবে। বিষয়টিকে তিনি “হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার রাতে। সেদিন শাহবাগ থানায় মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে ঢাবি ছাত্রদল ও ডাকসু নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেককে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে।
পরে হামলার ভিডিও ফুটেজসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় যান ডাকসু নেতারা। তবে তাদের দাবি- সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করছে।
এ বিষয়ে এ বি জুবায়ের বলেন, অনেক গণমাধ্যম ঘটনাটিকে ছাত্রদল-শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, যা সঠিক নয়। তিনি বলেন, তারা ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সহায়তায় থানায় গিয়েছিলেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, থানার ভেতরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। এমনকি এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে কিনা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তা এড়িয়ে যান।
মামলা করতে যাওয়া প্রতিনিধিদলে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক আরমানুল ইসলাম, ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার।
এ দিকে একই অভিযোগ তুলেছে ঢাবি সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেও তারা মামলা দায়ের করতে পারেননি। তার ভাষায়, পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, হামলার শিকার হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে না পারা উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রদল নেতাদের হামলার শিকার হন ডুজার সভাপতি ও কালের কণ্ঠের ঢাবি প্রতিনিধি মানজুর হোসাইন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলামসহ অন্তত ১০ জন সাংবাদিক।