দেশের নদীগুলোর নাব্য সঙ্কটে উদ্বেগ, আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টনে কূটনৈতিক উদ্যোগের দাবি
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর নাব্যতা হ্রাস, আন্তঃসীমান্ত পানিবণ্টন জটিলতা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও পরিবেশকর্মীরা।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে সামাজিক সংগঠন নোঙর ট্রাস্টের উদ্যোগে “গঙ্গা চুক্তি ও অভিন্ন নদীতে বাংলাদেশের অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভায় এ উদ্বেগ উঠে আসে।
নোঙর ট্রাস্টের সভাপতি সুমন শামসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি।
তিনি বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের টিকে থাকা নির্ভর করছে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য পানিবণ্টনের ওপর। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উজানের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও সরকার কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোঙর ট্রাস্টের সভাপতি সুমন শামস। তিনি বলেন, গঙ্গা ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা শুধু কূটনৈতিক ইস্যু নয়, এটি বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও পরিবেশের প্রশ্ন। তিনি অভ্যন্তরীণ নদী দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত ড্রেজিং ও খাল-নালার অবহেলাকেও সংকটের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অভিন্ন নদী মানে অভিন্ন দায়, তাই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, তথ্য বিনিময়, যৌথ নদী কমিশনের কার্যকর ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক নদী আইন বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এস এম আবু হোরায়রা বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর শেষ হবে। তিনি জানান, চুক্তি নবায়ন ও যৌথ কারিগরি আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ চুক্তিতে ন্যূনতম পানির নিশ্চয়তা, বেসিনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মসয়ুদ মান্নান বলেন, গঙ্গা বা পদ্মা নদী শুধু জলস্রোত নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও বাস্তুসংস্থানের ভিত্তি।
রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, বাংলাদেশের চারটি বেসিনকে কেন্দ্র করে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। তিনি জানান, বিশ্বে প্রায় ২৬০টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ ৫৭টি নদীর সঙ্গে যুক্ত।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ড. মোঃ আব্দুল ওয়াহাব, জনাব তোফায়েল আহম্মেদ, জাকিয়া শিশির, মিহির বিশ্বাস, নাজির আহমেদ সিমাব, মিস নাহিদা আশরাফী, ফরিদুল ইসলাম, আলাউদ্দিন আহমেদ এবং সামসুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন নোঙর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাহিম। আন্তঃসীমান্ত নদী বিষয়ক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ঘোষণা করেন নোঙর ট্রাস্টি ফজলে সানি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোঙর ট্রাস্টের সদস্য আমিনুল হক চৌধুরী, বদরুল সরদারসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি ও পরিবেশকর্মীরা।
বক্তারা অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা এবং নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।