আন্তঃসীমান্ত প্রাণী রোগ মোকাবেলায় সার্কের আঞ্চলিক উদ্যোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত প্রাণী রোগের প্রভাব মূল্যায়ন শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা এবং সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ফোরাম সভা। গতকাল বুধবার যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে- সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ঢাকা এবং প্রাণী উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগ, শ্রীলঙ্কা। এতে অংশ নিয়েছে- সার্কভুক্ত বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

এ ছাড়া উপস্থিত রয়েছেন- বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা এশিয়া-প্যাসিফিক, খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয়, প্রাণী ও ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা উদ্যোগ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞরা। সভায় আন্তঃসীমান্ত প্রাণী রোগ মোকাবেলায় সার্কের আঞ্চলিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার কৃষি, প্রাণিসম্পদ, ভূমি ও সেচ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডি পি উইক্রেমাসিংহে প্রযুক্তি, পরীক্ষাগার সক্ষমতা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য প্রাণী স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

একই মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. পালিকা ফার্নান্দো দেশটির ভেটেরিনারি সেবা ও রোগ নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক কর্মশালা একে-অপরের অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং কৌশল সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করে।

সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি এবং এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে আঞ্চলিক কাঠামোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সার্ক সচিবালয় সীমান্ত-পারের সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত রিপোর্টিং ব্যবস্থায় আরো জোর দেবে।

সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ঢাকার পরিচালক ড. মো: হারুনূর রশীদ বলেন, ‘একটি দেশ একা আন্তঃসীমান্ত প্রাণী রোগ মোকাবেলা করতে পারবে না। যৌথ জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সমন্বিত পদক্ষেপই দক্ষিণ এশিয়ার প্রাণিসম্পদ খাতকে টেকসইভাবে রক্ষা করতে পারে।’ সভাপতির বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও প্রাণী উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. কে কে সরথ টেকসই আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সার্ক কৃষি কেন্দ্র, ঢাকার সিনিয়র প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ ড. মো: ইউনুস আলী বলেন, প্রাণী রোগ নজরদারি, যৌথ গবেষণা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদনির্ভর গ্রামীণ জীবিকা রক্ষা সম্ভব।

দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রযুক্তিগত সেশন, দেশভিত্তিক উপস্থাপনা এবং ফোকাসড গ্রুপ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মূল সুপারিশগুলো সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ফোরামে নীতিপর্যায়ে প্রেরণ করা হবে। বৈঠকটি আন্তঃসীমান্ত প্রাণী রোগ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালীকরণ এবং কোটি মানুষের জীবিকা রক্ষায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।