নিকলীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ লুটপাট : আহত ১৪

Printed Edition

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে পুরোনো শত্রুতা ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাণ্ডব চালানো, ভাঙচুর, লুটপাট এবং মারধরে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকা এখন উত্তেজনাপূর্ণ। ঘটনা নিয়ে চলছে মামলার প্রস্তুতি।

গত ৩ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সীমান্তঘেঁষা বাজিতপুর-দৌলতপুর ব্রিজসংলগ্ন সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম তাহের উদ্দিন ওরফে তাহুর বাড়িতে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও হামলার শিকার হন। ঘরে ঢুকে হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর (২২), আব্দুস ছাত্তার (৬৫), সাকিব (২২) ও পারভীন (৪৭) গুরুতর অবস্থায় প্রথমে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুস ছাত্তারকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

আক্রমণের শিকার যুবদল কর্মী আকাশ অভিযোগ করেন, নদী-নালা ইজারা ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে তার পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সকালে পিস্তল দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আলমাস ও প্রবাসী খোকনের নেতৃত্বে শতাধিক লোক বাড়িতে হামলা চালায়, নগদ টাকা-স্বর্ণালঙ্কার লুট করে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা আলমাসসহ দৌলতপুরবাসীর বড় অংশ পাল্টা দাবি জানিয়ে বলেন, ঘটনাটির সূত্রপাত চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। তাদের বক্তব্য, স্থানীয় ৪২০ প্রবাসীর গঠিত সমবায় সমিতির স্টিলবোর্ড নির্মাণস্থলে গত মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন যুবক শ্রমিকদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং দুই লাখ টাকা জোর করে নিয়ে যায়। এরপর সমিতির সদস্যরা প্রতিবাদে জড়ো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। তারা বলেন, আইন হাতে তুলে নেয়ার উদ্দেশ্য নয়, বরং ‘চাঁদাবাজি রুখতেই’ এই প্রতিরোধ। স্থানীয়দের অনেকেই জানান, রাতের ঘটনার সমঝোতা হলেও সকালে হামলার ঘটনাটি ‘পরিকল্পিত’ ও ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’। কেউ কেউ আবার এটিকে ২০০৬ সালে তাহু হত্যার সময়কার রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের ধারাবাহিকতা বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম তাহুর স্ত্রী অভিযোগ করেন, আমার স্বামীকে যেমন দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছিল, এবারও আমার ছেলেকে মারতে এবং লুটপাট করতে পরিকল্পিত হামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার দুই ছেলে বিদেশ থেকে নিয়মিত টাকা পাঠায় এবং হাওরে ৬০ কানি জমি রয়েছে তাদের। তাই চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘সাজানো’। নিকলী থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং চেয়ারম্যানপক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।