জুলাই আন্দোলনে অজ্ঞাত ১৮২ শহীদের লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অজ্ঞাত পরিচয় ১৮২ শহীদের লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ উপলক্ষে গতকাল বিকেলে মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রেকি করে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট। পরবর্তীতে লাশ উত্তোলন করে শহীদদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহে কাজ শুরু করবে তারা। লাশ উত্তোলনের প্রথম দিন সিআইডির প্রধানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশ র্যাব, বিজিবি নির্বিচারে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি করতে থাকে। এতে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী নিহত হন। লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি বা কোনো প্রমাণ না রাখার জন্য বেশির ভাগ লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতের আঁধারে দাফন করে ফেলে। জানা যায়, রায়েরবাজার কবরস্থানেই ১৮২টি লাশ দাফন করা হয়েছে। ওই লাশের পরিচয় শনাক্তের জন্য মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম একটি আবেদন করেন। যাতে বলা হয়, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জন্ম নেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ নিহত হন। তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা দরকার’। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ আগস্ট ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান লাশ উত্তোলন করে নমুনা সংগ্রহের আদেশ দেন। সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, রায়েরবাজার কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনে অজ্ঞাত পরিচয় শহীদদের লাশ উদ্ধারে কবরস্থান এলাকা রেকি করা হয়েছে। তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। ওই তাঁবুতেই অস্থায়ী মর্গ নির্মাণ করা হবে। সেখানে লাশ উত্তোলন করার পর প্রক্রিয়াগত সব কাজ করা হবে। এমনকি এ অস্থায়ী তাঁবুতেই ময়নাতদন্ত করা হবে। পরবর্তীতে লাশ আবার যথাযথ প্রক্রিয়ায় দাফন করা হবে।
এ দিকে সিআইডি সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত পরিচয় শহীদদের পরিচয় শনাক্তে বিদেশী বিশেষজ্ঞ ফরেনসিক ইউনিটকে সহযোগিতার কথা রয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে দাফন হওয়া শহীদদের লাশ উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহে অন্তত এক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানা যায়।