সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ অতিরিক্ত টাকা দাবি
Printed Edition
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচিতে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, হয়রানি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, নির্ধারিত খরচের বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান জমা নেয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০৯ জন কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ৯২৩ টন ধান ও ৩৮ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচিত কৃষকরা নির্ধারিত দামে সরকারকে ধান বিক্রির সুযোগ পেলেও বাস্তবে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তানভীর হোসেন বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান জমা দিতে গেলে শ্রমিক মজুরি, অফিস খরচসহ বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের কৃষক হাফেজ বিল্লাল হোসেন। তিনি দাবি করেন, অফিস খরচের নামে তাকে ছয় হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
উপজেলা কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো: আতাউর রহমান সরকার বলেন, লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেক কৃষক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অতিরিক্ত টাকা না দিলে ধান জমা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি জানান, তার কাছ থেকেও তিন হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।
এ দিকে দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক সুরুজ মোল্লা অভিযোগ করেন, তার অজান্তেই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির তথ্য দেখানো হয়েছে। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তিনি জানেন না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মতলব উত্তর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, যে অর্থ নেয়া হয়েছে, তা সরকারের নির্ধারিত ভ্যাট, আয়কর ও শ্রমিক খরচ বাবদ। তবে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকলে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, লটারির কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো: আব্দুর রহমান খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তার জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।