রামগড়ে চিকিৎসকের ওপর চিকিৎসকের হামলা
Printed Edition
রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না-দাবি সনদ (এনওসি) নেয়াকে কেন্দ্র করে এক উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের মাথায় কাঠের স্কেল দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তারই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ওই কর্মকর্তার নাম মো: শফিকুল ইসলাম। তিনি রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ। বর্তমানে আহত অবস্থায় হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযুক্ত বিজয় মজুমদারও একই পদের কর্মকর্তা তিনি সম্প্রতি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়েছেন।
হাসপাতাল ও প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বদলিজনিত কারণে নিজের ‘লাস্ট পে সার্টিফিকেট’ (এলপিসি) সংগ্রহের জন্য গতকাল বেলা ২টার দিকে বিজয় মজুমদার জরুরি বিভাগে শফিকুল ইসলামের কাছে না-দাবি সনদ নিতে যান। শফিকুল ইসলাম ইনচার্জ হিসেবে বিজয়ের কাছে থাকা হাসপাতালের একটি সরকারি বড় তালা ফেরত চান। এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিজয় টেবিলের উপর থাকা একটি মোটা কাঠের স্কেল দিয়ে শফিকুলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে শফিকুলের মাথা ফেটে যায় এবং তাকে একটি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহায়ক হারুন বলেন, বিজয় স্যার না-দাবি সনদ নিতে এলে শফিকুল স্যার তার কাছে হাসপাতালের তালাটি ফেরত চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিজয় স্যার টেবিলের স্কেল দিয়ে শফিকুল স্যারের মাথায় আঘাত করেন।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করে শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি মালামাল বুঝিয়ে দিতে বলায় তিনি আমার ওপর হামলা করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে। আমি বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তবে অভিযুক্ত বিজয় মজুমদার ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এটি ইচ্ছাকৃত কোনো হামলা ছিল না। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হলে দুর্ঘটনাবশত তার মাথায় আঘাত লাগে। শফিকুলের পরিবারের সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।