চারে নামার ভয় গ্রিনদের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের বিপে প্রথম টেস্ট হেরে কোণঠাসা অস্ট্রেলিয়া। প্যাট কামিন্সের দল এখন হোয়াইটওয়াশের আশঙ্কায়। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের বিপে দ্বিতীয় টেস্ট হারলে প্রভাব পড়বে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ওপরও। বাংলাদেশের সামনে যখন ইতিহাস গড়ার হাতছানি, অস্ট্রেলিয়ার জন্য সেটি সম্মান বাঁচানোর লড়াই। ৯ উইকেটে হারের পর কামিন্স-ট্রাভিস হেডদের রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম। এমনকি রিকি পন্টিং-ইয়ান চ্যাপেলের মতো কিংবদন্তিরাও অনুজদের এমন পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না।
বাংলাদেশের বিপে দ্বিতীয় টেস্ট নয়, গ্রিন ব্যাপারটা আরো এক ধাপ এগিয়ে চিন্তা করছেন। ম্যাকয়তে গতকাল সাংবাদিকদের ২৭ বছর বয়সী অসি অলরাউন্ডার বলেন, সামনের ১২ মাস আমাদের জন্য খুব কঠিন হতে যাচ্ছে। দণি আফ্রিকা, ভারত ও ইংল্যান্ড বিদেশের মাঠে তিনটি কঠিন সিরিজ রয়েছে। পাশাপাশি একটা বিশ্বকাপও আছে।
গতকাল সাংবাদিকদের ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বলেন, আপনি যখন জোর করে কিছু করতে চান, তখন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে গিয়ে ভালো করার তাগিদে অনেক সময় ফলও জোর করে পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেস্ট ক্রিকেটে এমনটা সম্ভব নয়। ১০ ওভারের মধ্যে সেঞ্চুরি করা সম্ভব নয়। সেঞ্চুরি করতে হলে কয়েক ঘণ্টা ব্যাটিং করতে হয়।
এবারের সফরের সাথে ২০২৩ সালের মিল খুঁজে পাচ্ছেন গ্রিন। সেবার ইংল্যান্ড, ভারত সফরে গিয়ে টেস্ট সিরিজ ড্র করেছিল অসিরা। সেই বছর ভারতকে হারিয়েই ২০২১-২৩ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ দু’টি মেজর টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে অস্ট্রেলিয়া। এই অলরাউন্ডার বলেন, ২০২৩ সালে আমাদের সূচি অনেকটা একই রকম ছিল। খুব সফল একটি বছর কাটিয়েছিলাম। এবারো আমরা একই রকম কিছু করার আশা করছি। এই সময়টা দলের জন্য একটু কঠিন হলেও রোমাঞ্চকর।
অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারালেও ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ চারে। শান্তর দলের সফলতার হার ৬৬.৬৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ারও অবস্থানের পরিবর্তন হয়নি। ৭৭.৭৮ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে শীর্ষে অসিরা। ম্যাকয়তে আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নিজেদের ইতিহাসকে আরো একটু সমৃদ্ধ করার হাতছানি। দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে ধবলধোলাই করলে বাংলাদেশের সফলতার হার হবে ৭২.২২ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডের সাথে তখন যৌথভাবে তিনে অবস্থান করবে নাজমুল হোসেন শান্ত-মেহেদী হাসান মিরাজদের বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের কাছে ম্যাকয়তে অস্ট্রেলিয়া হারলে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চারে নেমে যাবে। অসিদের সফলতার হার হবে তখন ৭০ শতাংশ। তখন ভারত, ইংল্যান্ড, দণি আফ্রিকা সফরে দারুণ কিছু করে ফাইনাল খেলা কঠিন হয়ে যাবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য।
ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পরও প্রতিপকে নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনের। বরং তার দাবি, বাংলাদেশ যে ভালো দল, সেটি আগেই তাদের জানা ছিল। প্রথম দিনের পরই ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে সেটিও বুঝে গিয়েছিলেন তারা। ‘বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা জানতাম ওরা ভালো দল। তারা দুর্দান্ত খেলেছে। প্রথম দিনের পর আমাদের আর ম্যাচে ফিরতে দেয়নি। ওরা আমাদের আর লড়াইয়ের সুযোগই দেয়নি। অনেক ধরনের চেষ্টা করলেও কোনো কিছুই কাজে আসেনি।’
ম্যাকয়ে টেস্টের উইকেট নিয়ে আশাবাদী গ্রিন। তার প্রত্যাশা, বাউন্স ও গতি থাকবে, এখানে অনেক সুন্দর উইকেট হয়। সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেট অবশ্য ভিন্ন। আমরা খুব ভালো উইকেট আশা করছি। বাউন্স থাকবে এবং ফাস্ট হবে।