মুশফিক-তানজিদকে নিয়ে দোলাচলে দল

Printed Edition
Sports-1
নেটে ব্যাটিং প্র্যাকটিসের সময় আঙুলে চোট পাওয়া মুশফিকুর রহীমের শুশ্রƒষা চলছে : বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশকে শুধু সিরিজে এগিয়েই দেয়নি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন ইতিহাসের সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। দ্বিতীয় টেস্টে ড্র করলেই সিরিজ নিশ্চিত হবে, আর জয় পেলে সাফল্য পাবে আরো বড় মাত্রা। সেই ল্য সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ। তানজিদ ও মুশফিকের ফিটনেস নিয়ে আপাতত বড় দুশ্চিন্তা না থাকলেও টেস্ট শুরুর আগে তাদের পরিস্থিতির দিকেই থাকবে বাড়তি নজর!

ডারউইনে দাপুটে জয়ের পর এবার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেয়ার পালা। আগামীকাল শনিবার ম্যাকয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এর আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ শিবির। তবে ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা তানজিদ তানজিদ হাসান ম্যাকয়তে নেট অনুশীলনে ব্যাট হাতে নামেননি। পুরো সময় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে নেটের এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে দলের সাথে ওয়ার্মআপ ও ফিল্ডিং অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন এই ওপেনার।

ঘাড়ে আড়ষ্টতা অনুভব করায় সতর্কতা হিসেবে তানজিদকে ব্যাটিং অনুশীলন থেকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। তবে টেস্ট শুরু হতে এক দিন বাকি থাকায় বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়নি। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, পরের অনুশীলনেই অর্থাৎ আজ স্বাভাবিকভাবে ব্যাট হাতে দেখা যাবে তানজিদকে।

ডারউইনে তানজিদের ব্যাটিং ছিল বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের বিপে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন। তাই দ্বিতীয় টেস্টের আগে তার ফিটনেস বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিরিজ জয়ের সমীকরণ সামনে রেখে ওপেনিংয়ে তানজিদের উপস্থিতি স্বাগতিকদের বিপে বাংলাদেশের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনুশীলনে অবশ্য শুধু তানজিদই অস্বস্তিতে পড়েননি। ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে বলের আঘাত পেয়ে নেটের উইকেটেই বসে পড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আপাতত তার চোট নিয়েও বড় কোনো শঙ্কার খবর পাওয়া যায়নি।

অনুশীলনে আলাদা নজর ছিল শরিফুল ইসলামের দিকেও। দীর্ঘ সময় বোলিং করেছেন বাঁ হাতি এই পেসার। তাকে আলাদাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। ম্যাকায়ের উইকেটে গতি ও বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় দ্বিতীয় টেস্টে পেস আক্রমণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শরিফুলকে নিয়ে ধোঁয়াশায় রাখলেন কোচ

দ্বিতীয় টেস্টের আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৌতূহল এখন বাঁ হাতি পেসারকে শরিফুল ইসলামকে ঘিরে। ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পাওয়া বাংলাদেশের সামনে সিরিজ জয়ের সুযোগ। এমন পরিস্থিতিতে জয়ী কম্বিনেশন বদলানো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। তার ওপর ম্যাকয়ের উইকেটে ঘাসের উপস্থিতি এবং শক্ত পিচ পেসারদের জন্য বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। ডারউইনে যে একাদশ ইতিহাস লিখেছিল, ম্যাকয়য়ে সেই একাদশেই কি আবার আস্থা রাখবে বাংলাদেশ? নাকি চোট কাটিয়ে দলে ফেরা শরিফুল ইসলাম খুলে দেবেন নতুন কোনো দরজা?

শরিফুল অবশ্য দলের সাথে আছেন। চোট কাটিয়ে ডারউইনেই দলের সাথে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এখন ম্যাকাইয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের কথায়, সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে শরিফুলকে নিয়ে সিমন্সের সরাসরি বক্তব্য, ‘শরিফুলকে নিয়ে চার পেসার খেলানো হবে কি না আসলে এটি এখনো ঠিক করিনি। কালকে (আজ) ঠিক করব।’

সম্ভাবনার দরজা খোলা। তবে সেটি পুরোপুরি খোলা নয়। কারণ ডারউইনে যে তিন পেসারকে নিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দিয়েছিল, তাদের বাদ দিয়ে নতুন কাউকে ঢোকানোর যৌক্তিকতাও কম। সিমন্সও সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন। শরিফুলের দলে আসার ব্যাপারে প্রধান কোচ বলেছেন, ‘সে (শরিফুল) ভিন্ন কিছু এনে দেয় আমাদের দলে। তবে মাত্রই টেস্ট ম্যাচ জিতলাম। ফলে জেতার একাদশে বদল আনার সম্ভাবনা কম, এগুলো শুধুই সম্ভাবনা, কালকে (আজ) সিদ্ধান্ত নেবো।’

এ কথার ভেতরেই যেন ম্যাকাইয়ের একাদশের সবচেয়ে বড় ইঙ্গিতটা লুকিয়ে আছে। শরিফুলকে নিয়ে ভাবনা আছে, কিন্তু ডারউইনের জয়ী একাদশের ওপর আস্থাও অটুট। তারপরও ম্যাকয়ের কন্ডিশন বিষয়টিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সিমন্সের ভাষায়, পিচে কিছুটা ঘাস আছে এবং সেটি বেশ শক্ত। তিনি এটিকে ভালো টেস্ট উইকেট হিসেবেই দেখছেন।

ম্যাকয়ের পিচ প্রসঙ্গে ফিল সিমন্স বলেছেন, ‘পিচ দারুণ। কিছুটা ঘাস আছে। অনেক শক্ত। ভালো টেস্ট উইকেট। প্রতিটি উইকেটই ব্যাটারদের জন্য ভালো। ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি ঠিকভাবে ব্যাট করছেন কিনা।’

পিচের সুবিধা নিয়ে আগেভাগে কোনো পকে এগিয়ে রাখছেন না বাংলাদেশ কোচ। বরং তার চোখে ম্যাকয়ের উইকেট ব্যাটারদের সুযোগ দেবে, যদি তারা নিজেদের কাজটা ঠিকভাবে করতে পারে। এই মাঠে বাতাসও কম নয়। ব্যাটারদের জন্য সেটি বাড়তি চ্যালেঞ্জ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নেও সিমন্স খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। ম্যাকয়ের বাতাস প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, ‘ডারউইনেও অনেক বাতাস ছিল। দুই দলকেই এভাবে খেলতে হবে। ভালোভাবে মানিয়ে নিতে হবে। আগে আসতে পেরে তাই ভালোই হয়েছে। আমরা জানি এখানে কী কন্ডিশন। ছেলেদের মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলতে হবে।’

ডারউইন থেকে ম্যাকাইয়ের যাত্রাটাও খুব মসৃণ ছিল না। প্রায় ১৪ ঘণ্টার ভ্রমণের সঙ্গে ছিল ফাইট বিলম্ব। তবে সিমন্স সেটিকে বড় করে দেখছেন না, ‘আসলে ফাইট পিছিয়ে যাওয়া তো কারও হাতে নেই। এটা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এখানে নিরাপদে পৌঁছেছি এটাই বেশি জরুরি।’

শরিফুল ফিরলে বাংলাদেশের হাতে পেস বোলিংয়ের অপশন আরো বাড়বে। কিন্তু সিমন্সের চোখে সেটি নতুন কোনো বাস্তবতা নয়, ‘আমাদের সবসময়ই হাতে ভালো অপশন ছিল। দলে সবসময়ই পাঁচজন পেসার ছিল আমাদের। অন্য পেসাররা ছিল এখানে। তিনজন খেলিয়েছি আগের ম্যাচে, বড় জয় এসেছে। পরের ম্যাচে কয়েকজন খেলাব তা পরে ঠিক করব।’

ডারউইনে বাংলাদেশের প্রস্তুতির আরেকটি বড় অংশ ছিল টপ এন্ড টি-২০ সিরিজ। সেখানকার অভিজ্ঞতা টেস্টে কতটা কাজে দিয়েছে, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছিল সিমন্সের কাছে। তবে তিনি মনে করেন, কন্ডিশনের সাথে পরিচিত হওয়া যেমন জরুরি, মাঠে গিয়ে নিজেদের কাজ করাটাই শেষ কথা, ‘আসলে জানি না কতটা সাহায্য করেছে। এসব নিয়ে কথা বললে ভালো ব্যাপার। তবে এর পরও আপনাকে মাঠে গিয়ে খেলতে হবে, নিজের কাজটি করতে হবে। মুশফিকুর রহীম ও মুমিনুলও ভালো করেছে। বাকিদের এখানে এসে অনেক কিছু শিখতে হয়েছে। যে কারণে প্রথমে এসেই আমাদের তিন দিনের ম্যাচ খেলতে হয়েছে। এসবের মাধ্যমেই কন্ডিশন বুঝতে পেরেছি আমরা।’