সভ্যতার ইতিহাস প্রকৃত অর্থে শিক্ষকেরই ইতিহাস। রাষ্ট্র নামক প্রতিষ্ঠানটি যখন গঠিত হয়নি, রাজদণ্ড ও সিংহাসনের ধারণা যখন সুদূরপরাহত, তখনো সমাজে বিরাজমান ছিলেন একজন- যাকে আমরা গুরু বলে সম্বোধন করেছি। তিনি অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় উত্তরণের পথপ্রদর্শক, তিনি প্রজন্মান্তরে সভ্যতার প্রদীপ হাতবদল করার নিঃশব্দ কারিগর। প্রাচীন গ্রিসের এক মনীষী নাকি বলেছিলেন, ‘পিতা তাকে আকাশ থেকে ভূমিতে নামিয়েছেন, আর শিক্ষক তাকে ভূমি থেকে আকাশে উন্নীত করেছেন।’ এই একটি বাক্যেই শিক্ষকের অবস্থান নিরূপিত হয়ে আছে সহস্র বছর ধরে। অথচ পরিতাপের বিষয়, যে জাতি মুখে শিক্ষককে সর্বোচ্চ আসনে বসায়, বাস্তবের মানদণ্ডে সেই শিক্ষককেই সে রাখে সবচেয়ে নিচু ধাপে। এই বৈপরীত্য কেবল একটি বেতন-কাঠামোর সমস্যা নয়; এটি একটি জাতির নৈতিক মানদণ্ডের পরিমাপক।

সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে একটি আশাব্যঞ্জক উচ্চারণ শোনা গেছে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল স্থান থেকে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। তার অভিমত, জাতি গঠনে শিক্ষকের অনন্য ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের বেতন অন্য কোনো পেশার সাথে তুলনা করে নির্ধারণ করা সমীচীন নয়। বক্তব্যটি সংক্ষিপ্ত হলেও তাৎপর্যে গভীর। কারণ এতদিন শিক্ষকের বেতন-বৈষম্যের প্রশ্নটি ছিল শিক্ষকসমাজের একান্ত আকুতির স্তরে সীমাবদ্ধ; এবার তা উচ্চারিত হলো নীতিনির্ধারণের কেন্দ্র থেকে।

সাধারণ সরকারি চাকরিজীবীর পে-স্কেলের যান্ত্রিক ছকে শিক্ষককে বসানোর মধ্যে দার্শনিক অসঙ্গতি লুকিয়ে আছে। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার শ্রমের ফল তাৎক্ষণিক, দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য। কিন্তু শিক্ষকের শ্রম এক ধীর, নিঃশব্দ ও দীর্ঘমেয়াদি সাধনা, যার ফসল ফলে এক প্রজন্ম পরে, গোটা সমাজের চরিত্র ও দক্ষতার ভেতর দিয়ে। যে চিকিৎসক রোগীর জীবন রক্ষা করেন, যে প্রকৌশলী সেতু নির্মাণ করেন, যে প্রশাসক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন, যে বিচারক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন, তাদের গড়ে তোলেন একজন শিক্ষক। যিনি সমস্ত পেশার জন্মদাতা, তাকে সেই পেশাগুলোরই অধঃস্তন গ্রেডে স্থাপন করা অন্যায়। মন্ত্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে মূল্যবান দিক এই স্বীকৃতিটুকুই; শিক্ষকের মূল্যায়ন এক পৃথক দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করে।

বাস্তবতার সংখ্যাচিত্রে এই অসঙ্গতি আরো নগ্ন। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুসারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক তার কর্মজীবন শুরু করেন ত্রয়োদশ গ্রেডে, মাত্র ১১ হাজার টাকা মূল বেতনে। মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকের অবস্থান একাদশ গ্রেডে, শুরুর মূল বেতন সাড়ে ১২ হাজার টাকা। রাষ্ট্রের প্রথম শ্রেণীর চাকরিজীবীর তালিকায় শিক্ষকদের মধ্যে স্থান পান কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারভুক্তরা; প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিপুল শিক্ষকমণ্ডলী সেই মর্যাদাবৃত্তের বাইরে থাকেন অবহেলিত অবস্থায়। এই বেতন দিয়ে আজকের মূল্যস্ফীতির যুগে রাজধানী কিংবা মফস্বলের একটি পরিবারকে সম্মানের সাথে প্রতিপালন করা কার্যত অসম্ভব। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে অকপটে স্বীকার করেছেন, স্বল্প বেতনের কারণে বহু শিক্ষক তাড়াহুড়ো করে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব সেরে দ্বিতীয় কোনো জীবিকা বা কৃষিকাজে ছুটে যেতে বাধ্য হন। কেননা, শিক্ষকতার আয় দিয়ে সংসারের চাকা সচল রাখা দুঃসাধ্য। যে শিক্ষকের পুরো মেধা ও মনোযোগ ঢালার কথা ছিল শিক্ষার্থীর কল্যাণে, তিনি যখন জীবিকার তাগিদে দ্বিধাবিভক্ত, তখন ক্ষতিটি কোনো একক ব্যক্তির নয়, ক্ষতিটি হয় পুরো জাতির।

সভ্য পৃথিবীর দর্পণে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখলে এই দীনতা আরো পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে। ফিনল্যান্ডে একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মাসিক বেতন বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় দুই লাখ ৯১ হাজার থেকে তিন লাখ ৬৬ হাজার টাকা; যুক্তরাষ্ট্রে সেই অঙ্ক চার লাখ পঁচিশ হাজার থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর আমাদের একজন মাধ্যমিক শিক্ষক জীবন-সংগ্রাম শুরু করেন সাড়ে ১২ হাজার টাকায়। এই ব্যবধান নিছক অঙ্কের নয়, দৃষ্টিভঙ্গির; এই দূরত্ব বেতন-কাঠামোর নয়, সভ্যতার। ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা-বিস্ময়ের রহস্য নিহিত এখানেই। সেখানে বেতন ও সামাজিক মর্যাদা সর্বোচ্চ বলে দেশের সবচেয়ে মেধাবী তরুণরাই শিক্ষকতাকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন। বিদেশে শিক্ষক সেই সম্মান পান, যা অনেক সময় রাজনীতিবিদ বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও দেয়া হয় না। পক্ষান্তরে আমাদের সমাজে মলিন পোশাকের শিক্ষককে দেখে উচ্চবিত্তের অনেকে নাসিকা কুঞ্চিত করেন, ‘মাস্টারমশাই’ শব্দটিকে টেনে নামান তাচ্ছিল্যের স্তরে। এমন অবমাননার আবহে মেধাবী তরুণ এই পেশায় আকৃষ্ট হবেন কিভাবে, আর এলেও টিকে থাকবেন কোন প্রেরণায়? এভাবেই ধীরে ধীরে মেধার নির্বাসন ঘটে শিক্ষাঙ্গন থেকে, আর তার অনিবার্য পরিণতি বহন করে গোটা জাতি।

বলা প্রয়োজন, এই দাবি আকস্মিক নয়, অকস্মাৎ উদ্ভূত কোনো আবদারও নয়। বিগত কয়েক দশক ধরে শিক্ষকসমাজ তাদের ন্যায্য বেতন ও প্রাপ্য মর্যাদার জন্য বারবার রাজপথে দাঁড়িয়েছেন, বারবার প্রতিশ্রুতির মরীচিকায় প্রতারিত হয়েছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া শিক্ষক আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত এই আকুতি স্তিমিত হয়নি। ব্রিটিশ ভারত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রণীত প্রতিটি শিক্ষা কমিশন ও শিক্ষানীতি শিক্ষকের মর্যাদার কথা উচ্চকণ্ঠে বলেছে, প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে; অথচ পৃথক ও সম্মানজনক বেতন-কাঠামোর মৌলিক প্রশ্নটি রয়ে গেছে বরাবরই অমীমাংসিত। সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টাও এক অনুষ্ঠানে অকপটে স্বীকার করেছিলেন, সমতুল্য দেশগুলোর তুলনায় আমাদের শিক্ষকরা, বিশেষত বেসরকারি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা, সবচেয়ে উপেক্ষিত ও অবহেলিত। দশকের পর দশক ধরে জিইয়ে রাখা এই অবিচারের অবসান আজ কেবল কাম্য নয়, অপরিহার্য।

তবে এখানে একটি সতর্কবার্তাও অনুচ্চারিত রাখা যায় না। ‘স্বতন্ত্র পে-স্কেল’ যেন কেবল কয়েকটি ধাপে বেতন বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত না হয়। স্বতন্ত্র শব্দটির অর্থ প্রকৃতপক্ষেই আলাদা এমন এক কাঠামো, যেখানে শিক্ষকতার বিশেষ প্রকৃতি, দায়িত্বের গভীরতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বেতন নির্ধারিত হবে সাধারণ চাকরির স্কেলের ঊর্ধ্বে। আর যেহেতু প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক- এই প্রতিটি স্তরের দায়িত্ব, চাহিদা ও যোগ্যতার প্রকৃতি পরস্পর থেকে ভিন্ন, সেহেতু বেতনকাঠামোও হওয়া উচিত স্তরভেদে ভিন্ন এবং উত্তরোত্তর উচ্চতর। প্রাথমিকের শিক্ষক শিশুর মানসপটে গড়ে দেন ভিত্তিপ্রস্তর, মাধ্যমিকের শিক্ষক নির্মাণ করেন তার যুক্তিবোধ ও দক্ষতার কাঠামো, আর উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক তাকে প্রস্তুত করেন উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের বৃহত্তর অঙ্গনের জন্য। এই স্তরগুলোর মধ্যে দায়িত্বের ক্রমোচ্চ বিন্যাস থাকবে; কিন্তু কোনো স্তরই যেন অবহেলার অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত না হয়- এমন একটি সুবিন্যস্ত, ন্যায়সঙ্গত ও স্তরভিত্তিক কাঠামোই কাক্সিক্ষত। সেই সাথে অপরিহার্য কর্মদক্ষতা ও অভিজ্ঞতানির্ভর পদোন্নতির সুযোগ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ-ভাতা, অবসরকালীন নিরাপত্তা এবং বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্যও ন্যূনতম নিশ্চয়তার ন্যায্য বিধান। অন্যথায় ‘স্বতন্ত্র’ শব্দটি রয়ে যাবে কেবল অলঙ্কার বা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।

আশার কথা, সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে এই বরাদ্দ মাত্র ২ শতাংশ; পাঁচ বছরে তা আড়াইগুণ বাড়ানোর অঙ্গীকার নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী ও প্রশংসনীয়। ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কেবল মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে চার হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকের বেতন ও মর্যাদা ধাপে ধাপে বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও উচ্চারিত হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। এই ইতিবাচক অভিমুখকে সাধুবাদ জানাই।

কিন্তু ইতিহাসের অভিজ্ঞতা আমাদের সাবধান করে, প্রতিশ্রুতি যেন প্রতিশ্রুতিতেই আবদ্ধ না থাকে, আশ্বাস যেন আশ্বাসের মরুভূমিতে হারিয়ে না যায়। কেবল অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেই চলবে না; প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা, একটি সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, যেখানে স্পষ্ট করে বলা থাকবে- কবে, কোন স্তরে, কীভাবে এই স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো কার্যকর হবে। ঝুঁকিটি ছোট নয়; কারণ বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে যোগ্য ও মেধাবী মানুষ শিক্ষকতা থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য পেশায় চলে যাবেন, আর শিক্ষাঙ্গন ক্রমেই রিক্ত হয়ে পড়বে মেধার আলো থেকে। মেধার এই নিঃশব্দ নির্বাসন যেকোনো জাতির জন্য সবচেয়ে বড় সর্বনাশ।

বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকলে যে অসাধ্য সাধন সম্ভব, তার প্রমাণ আমাদের সামনেই বিদ্যমান। নারীদের অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সাহসী সিদ্ধান্ত যেখানে এই পর্যায়ের সমুদয় ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে এবং কৃতী ছাত্রীদের জন্য থাকবে বৃত্তির সংস্থান। যে দৃঢ়তা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে দেখানো হয়েছে, ঠিক সেই দৃঢ়তাই এবার প্রয়োজন শিক্ষকের মর্যাদার প্রশ্নে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষকের পেছনে ব্যয় করা অপচয় নয়; বরং জাতির ভবিষ্যতে সবচেয়ে নিশ্চিত বিনিয়োগ; অর্থের অজুহাতে এই বিনিয়োগ রুদ্ধ রাখা আত্মঘাতী। বিবেকবান নাগরিকের নজর তাই আজ কথার ফুলঝুরিতে নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের দিকেই নিবদ্ধ।

পরিশেষে বলি, একজন শিক্ষকের হাতেই রচিত হয় আগামী প্রজন্মের চরিত্র, তার স্পর্শেই জেগে ওঠে একটি সমাজের সুপ্ত সম্ভাবনা। আজ যে শিশুটি তার কাছে প্রথম অক্ষরের পাঠ নিচ্ছে, দুই দশক পরে সে-ই হয়তো এই রাষ্ট্রের কাণ্ডারি হয়ে দাঁড়াবে; অর্থাৎ একজন শিক্ষকের শ্রম একই সাথে বর্তমান গড়ে তোলে আর ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’-এই চিরন্তন সত্য জীবন্ত রাখতে হলে সেই মেরুদণ্ডের নির্মাতাকে সম্মান প্রদর্শনে কার্পণ্য করা চলবে না; কেননা মেরুদণ্ড দুর্বল হলে গোটা জাতিরই মস্তক অবনত হয়ে পড়ে।

উন্নত বেতন ও উন্নততর সামাজিক মর্যাদাই হতে পারে শিক্ষকতা নামক এই মহৎ সাধনার শ্রেষ্ঠ প্রতিদান। স্বতন্ত্র পে-স্কেলের এই সময়োপযোগী ভাবনাকে বাস্তবের রূপ দিতে হলে দল, মত ও শ্রেণী-নির্বিশেষে সবার ঐকান্তিক সমর্থন অপরিহার্য। এ কোনো একটি গোষ্ঠীর দাবি নয়, এ গোটা জাতির আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। কারণ শিক্ষককে মর্যাদা দেয়া মানে প্রকৃতপক্ষে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকেই মর্যাদা দেয়া, আমাদের আগামী প্রজন্মের প্রতি অপরিশোধিত ঋণ শোধ করা। এই ঋণ পরিশোধে আজ যদি আমরা ব্যর্থ হই, আগামী দিনের ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

লেখক : অধ্যাপক (অব:), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Mal55ju@yahoo.com