ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতকে বঞ্চিত করা হয়েছে : ডা: তাহের

Printed Edition
Font-2
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচনী কারচুপির মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের।

গতকাল রাজধানীর মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা: তাহের বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তাদের দ্রুতবিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ডা: তাহের অভিযোগ করেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালে লন্ডন সফরের সময় এক গোপন বৈঠকে বিএনপিকে মতায় আনার নীলনকশা তৈরি করেছিলেন। সে পরিকল্পনার পুরস্কার হিসেবেই তিনি বর্তমান মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের একটি টেলিভিশন সাাৎকারের বরাতে তিনি বলেন, রিজওয়ানা হাসান স্বীকার করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট শক্তিকে মূলধারায় আসতে দেয়া হয়নি। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজেই নির্বাচনী কারচুপির ‘রাজসাী’ হয়েছেন। আমরা জানতে চাই, কার নির্দেশে এবং কাদের সহযোগিতায় জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী হতে বাধা দেয়া হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াত থেকে নাম প্রস্তাবের বিষয়ে ডা: তাহের জানান, সরকারের প থেকে সংবিধান অনুযায়ী লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় এ উপনেতা বলেন, গত কয়েক দিনে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনা ঘটছে। সারা দেশে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। অথচ অনেক েেত্র থানা মামলা নিতে গড়িমসি করছে, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে উসকে দিচ্ছে।

অন্য দিকে দণি ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে সাম্প্রতিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি জানান, পারস্পরিক দ্বিপীয় সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের এআই (অও) সেক্টরে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ চাই না, আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট শিশির মো: মনির।