নতুন সরকারের হাতে পে-স্কেল বাস্তবায়ন ছেড়ে দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

অবশেষে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন থেকে পিছু হটল অন্তÍর্বর্তী সরকার। মেয়াদ সীমিত সময়ের হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন শুধু গ্রহণ করা হয়েছে, বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছিল। বিক্ষোভ হয়েছিল, নানা রকম। সে ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন পে-কমিশন প্রতিবেদন দিয়েছে। যাতে নতুন সরকার এসে একটি অচল অবস্থার সম্মুখীন না হয়, আমরা চাচ্ছি নতুন যে সরকার আসবে তাদের যাত্রাপথ যেন স্মুথ হয়। যেই সরকারই আসুক।

তিনি বলেন, সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করে মতামত দেবে। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকার চাইলে এ সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবে।

পরবর্তী সরকার কি এ সুপারিশ বাতিল করতে পারবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার যেকোনো কিছু করতে পারে। এ সরকার যেমন একটি নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। পরবর্তী সরকার ঠিক একইভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওরা যেকোনো কিছু করতে পারে।

কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ অর্থের সংস্থান কিভাবে হবে- জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে- যদি পে-কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হয় এবং একই সময়ে যদি সব বাস্তবায়ন করা হয়। আর অর্থের সংস্থান কিভাবে হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।

তিনি বলেন, আমি সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, বাস্তবতা হলো এ ধরনের পে-কমিশন একসাথে সব বাস্তবায়িত হয় না, পর্যায়ক্রমে হয়। সম্ভবত এটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

এ ধরনের সুপারিশ দিয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী সরকারের জন্য চাপ হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটি সীমিত সময়ের সরকার। আমরা অনেক কাজ করেছি যাতে আগামী সরকার উপকৃত হয়।

সাধারণ সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন। কিন্তু গতকাল তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা না বলেই চলে যান।

নির্বাচন উপলক্ষে র‌্যাবের জন্য বিনা টেন্ডারে কেনা হচ্ছে ১৬৩টি গাড়ি।

এ দিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে র‌্যাবের জন্য ১৬৩টি যানবাহন সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেড’ এসব যানবাহন সরবরাহ করবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

জানা যায়, ১৬৩টি যানবাহনের মধ্যে ৩টি জিপ, ১০০টি পেট্রোল পিকআপ ও ৬০টি মাইক্রোবাস (এসি) রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইতঃপূর্বে যানবাহন সংগ্রহের এ প্রস্তাবটি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি সময় সাপেক্ষ বিধায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং র‌্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম আরো গতিশীল রাখার লক্ষ্যে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব যানবাহন কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অপর দিকে ‘সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র সভায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আরামকো ট্রেডিং (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড’ থেকে স্বল্প মেয়াদে ৫টি এলএনজি কার্গো আমদানিসহ ৬টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অন্যান্যের মধ্যে- রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর ‘ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড’ থেকে ৪র্থ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন সার ৪১০ ডলার দরে বাংলাদেশী মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রুডিনটর্গ) থেকে ৮ম লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির আরেকটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন সার ৩৫২.৯৩ ডলার দরে বাংলাদেশী মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।

সভায় টিসিবির জন্য স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং ১০ হাজার মেট্রিক টন (১০টি লটে) মসুর ডাল ক্রয়ের দু’টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ লাখ লিটার করে দুটি প্রতিষ্ঠান- ‘সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড’ (প্রতি লিটার ১৮৫.৯৫ টাকা দরে) এবং ‘শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ’ (প্রতি লিটার ১৮৫.৯০ টাকা দরে) সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। দু’টি মিলিয়ে মোট ব্যয় হবে ১৮৫ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্য দিকে ১০টি লটে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সরবরাহ করবে ‘কেবিসি এগ্রো প্রাইভেট লিমিটেড’। প্রতি কেজি ডাল ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা দরে এতে মোট ব্যয় হবে ৭০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া সভায় রাষ্ট্রীয় সমুদ্র গবেষণা ও জরিপ পরিচালনায় কক্সবাজারে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ গবেষণা সরঞ্জামাদিসহ স্যাম্পল কালেকশনের জন্য ১টি ছোট রিসার্চ ভ্যাসেল এবং ২টি স্পিড বোট ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এগুলো সরবরাহ করবে ‘খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড’। এতে ব্যয় হবে ১৬১ কোটি ৭১ লাখ টাকা।