পলাতক আসামির পে চিঠির অধিকার নেই ল ফার্মের

হাসিনার রায় বাতিলের চিঠি নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভারতে পলাতক মতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পে যুক্তরাজ্যের আইনি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের চিঠি পাঠানোর কোনো আইনগত অধিকার নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

গতকাল বিকেলে ট্রাইব্যুনালের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দাফতরিকভাবে এ ধরনের কোনো চিঠি তাদের কাছে পৌঁছায়নি এবং পলাতক আসামির পে এ জাতীয় তৎপরতা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

চিফ প্রসিকিউটর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি ট্রাইব্যুনালে আসে, তবে চিঠির ভাষা ও বক্তব্য অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ল ফার্ম এবং যাদের পে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, লন্ডনের ৮২ বছরের পুরনো প্রথিতযশা আইনি প্রতিষ্ঠান ‘কিংসলে নেপলি’ শেখ হাসিনার পে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘অন্যায্য ও অবৈধ’ দাবি করে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশনের দাফতরিক মেইলে এমন কোনো বার্তা আসেনি। তিনি জনৈক সাংবাদিকের পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ কপির মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন। চিঠির মান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ‘ডিয়ার আইসিটি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপেশাদার ও অপরিপক্ব। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, এটি কোনো প্রকৃত ব্রিটিশ ল ফার্মের কাজ কি না, নাকি স্থানীয় কোনো চক্রের তৈরি ভুয়া চিঠি।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক। চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, একজন দণ্ডিত এবং পলাতক আসামির পে কোনো বিদেশী ল ফার্মের এভাবে আইনি ওকালতি করার কোনো সুযোগ বাংলাদেশের আইনে নেই।

গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী, কিংসলে নেপলি তাদের চিঠিতে দাবি করেছে যে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে পরিচালিত এই বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায্যবিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। চিঠিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অভাব, প্রসিকিউশনের পপাত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাকে বিচারের স্বচ্ছতা নষ্টের কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ফলে দেশে এক বৈরী পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে আসামিপ আত্মপ সমর্থনের কোনো সুযোগ পায়নি। কিংসলে নেপলি তাদের এই চিঠির জবাব দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালকে ১৪ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

তবে চিফ প্রসিকিউটর এই সময়সীমা ও চিঠির দাবিকে ‘উড়োচিঠি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এ ধরনের কোনো চিঠির কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম বিতর্কিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, একই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যা পুরোপুরি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে।