হাওরাঞ্চলে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র চরম ভোগান্তিতে কৃষক-চালক

Printed Edition
bangla-3
কিশোরগঞ্জের একটি পেট্রল পাম্পে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা : নয়া দিগন্ত

আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জ্বালানি সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে কৃষক, মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর নজরদারি নেই।

বাজিতপুর, নিকলী, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইনসহ হাওর অধ্যুষিত বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ পেট্রলপাম্পে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের তীব্র সঙ্কট চলছে। কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধও রাখা হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ, বিশেষ করে বোরো মৌসুমের সেচকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানির অভাবে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। নিকলীর সাজনপুর এলাকার কৃষকরা জানান, সেচকাজে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পেলে বোরো ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। অন্য দিকে চালকরা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি না পেয়ে বাধ্য হয়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা লিটার দরে কিনতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদনহীন খুচরা দোকানে বোতলজাত জ্বালানি অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি নি¤œমানের জ্বালানি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। বাজিতপুরের গাজিরচর এলাকার এক মোটরসাইকেল চালক জানান, বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও জ্বালানি না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে পাম্প মালিকরা দাবি করছেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। তবে ভোক্তাদের প্রশ্ন, সরকার যেখানে পর্যাপ্ত মজুদের কথা বলছে, সেখানে মাঠপর্যায়ে এই সঙ্কট কেন। নিকলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার তদারকি জোরদার না হলে কৃষি উৎপাদনসহ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।