পাহাড়ের ভাঁজে নীরব সংগ্রাম
আলীকদমে আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন অবহেলিতরা
Printed Edition
মমতাজ উদ্দিন আহমদ আলীকদম (বান্দরবান)
বান্দরবানের আলীকদম ও লামার দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করা প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে পরিবর্তনের হাওয়া লাগছে। গত এক দশক ধরে কারিতাস বাংলাদেশ পরিচালিত এসডিডিবি প্রকল্পের মাধ্যমে এসব প্রান্তিক মানুষ ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন।
আলীকদম বাসটার্মিনাল এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াস একসময় কর্মহীন ও অসহায় ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজস্ব মুদি দোকান পরিচালনা করছেন। প্রকল্পের সহায়তা পেয়ে তিনি বলেন, এখন নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন এবং আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। একইভাবে চিওনীপাড়ার ফরিদা বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ছাগল পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। নূর নাহার ছাগল বিক্রির আয় দিয়ে গরু কিনে নতুনভাবে জীবন শুরু করেছেন।
প্রকল্পের আওতায় প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যও নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশু সিরাজুল ইসলাম চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছে এবং হুইলচেয়ারে চলাচলকারী প্রসন্ন ত্রিপুরা পেয়েছে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পুষ্টিকর খাদ্য। এতে শিশুদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের জীবনেও স্বস্তি ফিরেছে।
কারিতাস বাংলাদেশ বাস্তবায়িত ও জার্মান সরকার এবং বিএমজেডের সহায়তায় পরিচালিত এসডিডিবি প্রকল্প বর্তমানে তৃতীয় ধাপে রয়েছে। আলীকদমে প্রতিষ্ঠিত ‘হিতৈষী কাব ঘর’ প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি সহায়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
এ বিষয়ে আলীকদম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরকারি সেবা গ্রহণে আগ্রহী ও সচেতন হচ্ছে, যা এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে এ উদ্যোগ একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠছে।